নেত্রকোনা প্রতিনিধি : খাবারের সন্ধানে বন ছেড়ে লোকালয়ে এসে মানুষের হাতে আটক হলো বাঘ শাবক। নেত্রকোনা সদর উপজেলার বর্নী গ্রামের কৃষক শাহজাহানের বাড়িতে হাঁসের খামারে ফাঁদে আটকা পড়ে ওই বাঘ শাবক। রোববার নেত্রকোনা বন বিভাগ পুলিশের সহায়তায় বাঘ শাবকটিকে শেরপুরের ইকো পার্কে পাঠায়।
খামার মালিক শাহজাহান জানান, বছরখানেক আগে তিনি নিজ বাড়িতে একটি ঘরে হাঁসের খামার গড়ে তুলেন। ৫০০ হাঁসের বাচ্চা দিয়ে খামার শুরু করেন। খামারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রায় রাতেই তার খামার থেকে হাঁস কমতে থাকে। এভাবে প্রায় ১৫০ হাঁস কমে যায়। এতে তার সন্দেহ হয়। তিনি শেয়াল, বেজির উপদ্রব মনে করে খামারের চারপাশে জাল ও পলিথিন দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু এরপরও হাঁস কমা বন্ধ হয় না। কিছুদিন আগে তিনি অন্য গ্রাম থেকে লোহার খাঁচা কিনে আনেন। খাঁচাটি ওয়ার্কশপ থেকে মেরামত করেন। পরে বাঁশ ও সুতা দিয়ে ফাঁদ তৈরি করেন। শনিবার মধ্যরাতে ঘটে যায় বিপত্তি। ফাঁদে আটকা পড়ে ওই বাঘ শাবক। তিনি বোরবার সকালে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ও নেত্রকোনা বন বিভাগে খবর দেন। বাঘ শাবকটি লম্বায় প্রায় দুই ফুট, উচ্চতা এক ফুট এবং ওজন ৮ থেকে ১০ কেজি হবে।
বর্নী গ্রামের দুদু মিয়া বলেন, খবর ছড়িয়ে পড়ায় নেত্রকোনা, কলমাকান্দাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত লোক আসছে বাঘ শাবকটিকে দেখতে। বন বিভাগের লোকজন বারবার যোগাযোগ করছে যেন কোনো ক্ষতি না হয়। শিশুদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষার জন্য আমরা এটাকে নিরাপদ স্থানে রেখেছি। বন বিভাগের লোকজন নিয়ে যাওয়ার জন্য আসছে।
নেত্রকোনা বন বিভাগের ফরেস্টার সিদ্দিকুর রহমান বাঘ শাবক আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে।

