রাজবাড়ী প্রতিনিধি : রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর পাঠাগার থেকে নীলকুঠি রাস্তাটির মাঝে দীর্ঘ ৪০০ ফুট ভেঙে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসী।
রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় এ অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষেরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে ভোগান্তির সন্মুখীন হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইচচরে রাস্তাটির মাঝে প্রায় ৪০০ ফুট ভেঙে গেছে। রাস্তার উভয় দিকে পাকা হলেও মাঝখানে ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তাটি কোনো কাজেই আসছে না এলাকাবাসীর। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শেকাড়া ও খালকুলা গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ যাতায়াত করে। কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় এ অঞ্চলে ধান, পাট, পেঁয়াজ, রসুন ও মৌসুমি সবজির ব্যাপক আবাদ হয়। উৎপাদিত পণ্য হাট-বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কৃষকেরা। তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য বিকল্প রাস্তা দিয়ে অনেক দূর ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের অর্থ ও সময় উভয়ই নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৩ সালে টানা ভারী বর্ষণের ফলে বৃষ্টির পানি মাঠে জমে যাওয়ায় পানির চাপে ভেঙে যায় রাস্তাটি। এরপর ৪ বছরেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
শেকাড়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জেল মোল্লা ও একই গ্রামের দিনমজুর আব্দুল হালিম মৃধা জানান, রাস্তাটি এলাকাবাসীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা দিয়ে কয়েকটি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তাটি ভাঙা থাকায় সবাইকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এখন তাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি পুনঃনির্মাণের।
এ ব্যাপারে বহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘রাস্তাটি পুনঃনির্মাণ বা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কাউকে অবগত করা হয়নি। তবে এখন যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

