ঢাকাSaturday , 4 February 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১ দিনে আবাসিক সংযোগ প্রদানের নির্দেশ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

Link Copied!

bipuনিজস্ব প্রতিবেদক : সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছাতে হবে এবং গ্রাহকরা যাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। জাতির জনক স্বাধীনতা দিয়েছে আর শেখ হাসিনা দিবে উন্নত বাংলাদেশ। দেশ আজ দ্রুত মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবাই মিলে কাজ করলে অল্প সময়েই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। অদ্য ০৪/০২/২০১৭ খ্রিঃ তারিখ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত পবিস সমূহের জেনারেল ম্যানেজার সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ নসরুল হামিদ এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগের মাননীয় সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মঈন উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং বাপবিবোর্ডের সদস্য (প্রশাসন) জনাব মোঃ ইয়াকুব আলী পাটওয়ারী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওজোপাডিকো এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো নিজ নিজ ভৌগলিক এলাকার বাইরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করতে পারবে না। এ ব্যাপারে কেউ নির্দেশনা ভঙ্গ করলে তার ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ট্রান্সফরমার পোড়ার হার আরও কমাতে হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করতে হবে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এবং পিডিবি’র লোড শেয়ারিং আনুপাতিক হারে করতে হবে। লোড বরাদ্দের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা যায় কিনা তা যাচাই করা হবে। তিনি আবাসিক সংযোগ ১ দিনে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রয়োজনে দ্রুত সংযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহকের মালিকানা দলিলের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে দ্রুত সংযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে যত্রতত্র পোল দিয়ে পরিকল্পনাহীনভাবে লাইন নির্মাণ করায় ফসলী জমি নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য রাজধানীর আশেপাশের সমিতিগুলোতে আপাতত: ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল ব্যবহারের নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমানে পবিসগুলোর কলেবর যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সে তুলনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে না বিধায় এ ব্যাপারে ওয়ার্কশপ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসলেও তা শেষ হয়ে যায়নি। গ্রাহক সংযোগ প্রদানে আরো স্বচ্ছতার উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি। দেশের ৮০ শতাংশ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের। সুতরাং শতভাগ বিদ্যুতায়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হবে এবং এতে পল্লী বিদ্যুতের মাধ্যমে সরকারের সাফল্য আসবে। গ্রীডের অভাবে যে সকল সমিতি বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে পারছে না সে সকল সমিতির জিএমগণকে গ্রীড নির্মাণ সম্পর্কে একটি জরিপ প্রতিবেদন তাঁর নিকট প্রেরণের নির্দেশ দেন। তিনি আরো বলেন, সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে লাভজনক সমিতির সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে সমিতিগুলো নিজস্ব অর্থায়নে প্রি-পেইড মিটার ক্রয় পূর্বক গ্রাহক প্রান্তে স্থাপন করতে হবে। কারন ১ শতাংশ সিস্টেম লস কমলে বছরে প্রায় একশ’ বিশ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একটি সোলার চার্জিং স্টেশন নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সম্মেলন উপলক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের মাননীয় সচিব বাপবিবোর্ড কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বিতরণ সংস্থার মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পাওয়ায় অভিনন্দন জানান। তিনি দ্রুত গ্রাহক সংযোগ প্রদানের জন্যও আহ্বান জানান। শিল্প সংযোগের জন্য ২৮দিন এবং আবাসিকের ক্ষেত্রে একদিনে সংযোগে প্রদানের জন্য নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র ব্যতীত সংযোগ প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাপবিবোর্ডের বর্তমান কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত রাখার জন্যও পরামর্শ প্রদান করেন।
সম্মেলন উপলক্ষে বাপবিবোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয় একটি পাওয়ার পয়েণ্ট উপস্থাপন করেন। উক্ত পাওয়ার পয়েন্টে সমিতিসমূহের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন অর্জন, ব্যর্থতা, কারিগরী ও আর্থিক বিশ্লেষন, শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইন নির্মাণ ও উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের পরিকল্পনা, লক্ষ্যমাত্রা, প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন, বাপবিবোর্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। শতভাগ উপজেলা বিদ্যুতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ মোট ৪৬০টি উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য ৩৬,৯১২ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১৬টি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং আরও ৭টি প্রকল্প বিবেচনাধীন আছে। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ। আগামী জুন’১৭ মাসে আরো নতুন ২২ লাখ পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হবে। এতে গ্রাহক সংখ্যা হবে ২ কোটি। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ব্যাপক সফলতার কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সপ্তাহে বাপবিবো দেশের সেরা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। বাপবিবো ধারাবাহিক উন্নতির জন্য ২০১৬ সালে IMS (ISO 9001, ISO 14001 & OHSAS 18001 Certified) অর্জন করে। এ অর্জন বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনন্য।
ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমে অনলাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ, ই-জিপি, এসএমএস বিলিংসহ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইজিবাইকের ব্যাটারী চার্জিং এর জন্য বাপবিবোর্ড ইতোমধ্যে ৪টি সোলার চার্জিং স্টেশন নির্মাণ করেছে। এছাড়া ৪০টি সোলার সেচ পাম্প স্থাপনের পাশাপাশি আরও ২ হাজার সোলার সেচ পাম্প স্থাপনে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বাপবিবোর্ডের উদ্যোগে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩৫ হাজার কিলোমিটার লাইন এবং ৮৪টি উপকেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।