ঢাকাFriday , 3 February 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পোড়া শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে গৃহবধূ লাইলী

Link Copied!

Burn-Unitকুষ্টিয়া প্রতিনিধি : আগুনে পোড়া শরীর নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে গৃহবধূ লাইলী খাতুন (২১)। তার শরীরের অধিকাংশই আগুনে ঝলসে গেছে। পরিবারের অভিযোগ স্বামী অমিত হাসান যৌতুক না পেয়ে নির্যাতনের পর শরীরের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দিলে লাইলীর এ অবস্থা হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো যায়নি বলে পরিবার জানিয়েছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে লাইলী।
গত ২১ জানুয়ারি রাতে ঘটে যাওয়া এ অমানবিক ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দিন সকালে পুলিশ লাইলীর স্বামী অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করেও অজ্ঞাত কারণে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বুধবার রাতে পুলিশ এ ঘটনায় মামলা নিয়েছে।
লাইলীর বাবা রবিউল ইসলামের অভিযোগ, তিন বছর আগে একই উপজেলার কয়া গ্রামের সোবহান শেখের ছেলে অমিত হাসানের সঙ্গে তিনি মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের সময় এক জোড়া সোনার দুল আর কিছু নগদ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বিয়ের সময় নগদ কুড়ি হাজার টাকা দিয়েছিলেন তিনি। বিয়ের তিন বছর পার হয়ে গেলেও গহনা দেওয়া হয়ে ওঠেনি। আর এ জন্য শ্বশুর বাড়িতে তার মেয়েকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। তাই দুল তৈরির জন্য ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন। ওই টাকা নেওয়ার জন্য জামাই-মেয়ে দুই মাস তার বাড়িতে এসে থাকে। গত সপ্তাহে তাদের ১০ হাজার টাকা দিলে তারা চলে যায়। এতেও ক্ষান্ত হয়নি অমিত ও তার পরিবারের লোকজন। গত ২১ জানুয়ারি গভীর রাতে লাইলীর ওপর কয়েক দফায় শারীরিক নির্যাতন করে বাইরে চলে যায় অমিত। পরে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ফের মারপিট করে লাইলীর শরীরের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনা লাইলী নিজে ঘটিয়েছে বলে তাকে প্রচার করতে বলে অমিত। নাইলে অমিত তার শিশু মেয়েকে হত্যার হুমকি দেয়।
রবিউল জানান, রাতেই শ্বশুর বাড়ি এলাকার কয়েকজন লোকের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি মেয়েকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরদিন সকালে সেখানকার ডাক্তার লাইলীকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। দুইদিন পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তারদের পরামর্শে লাইলীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে না পারায় তিনি সেখানে মেয়ের চিকিৎসা না করিয়ে বাড়ি নিয়ে আসেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পুনরায় কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন জানান, লাইলীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তার শরীরের প্রায় ৯০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে।
বুধবার ঘটনার খবর পেয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেলা আক্তার অগ্নিদগ্ধ লাইলী খাতুনকে দেখতে যান। এ সময় তিনি লাইলীর বাবাকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা মোতাবেক লাইলীর বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে স্বামী অমিত হোসেন, শ্বশুর সোবহান শেখ, শাশুড়ি নূরজাহান খাতুন ও ভাসুর সজলকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ মামলা হিসেবে রেকর্ড করে।
লাইলীর বাবা আরও জানান, ২২ জানুয়ারি তিনি বিষয়টি কুমারখালী থানায় জানালে থানার এসআই অসীম অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় অজ্ঞাত কারণে অমিতকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এসআই অসীম দাবি করেন, লাইলীর সুষ্ঠু চিকিৎসা করবে এমন শর্তে অমিতকে ছেড়ে দিয়েছেন।
কুমারখালী থানার (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লাইলীর বক্তব্য রেকর্ড করেছেন বলেও জানান ওসি।