ঢাকাThursday , 29 December 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভুলুয়া খালপাড়ের বাসিন্দারা বিপদে

Link Copied!

অবৈধ বালু উত্তোলনে ভেঙ্গে যাচ্ছে ভুলুয়া খালপাড়ের সড়ক

অবৈধ বালু উত্তোলনে ভেঙ্গে যাচ্ছে ভুলুয়া খালপাড়ের সড়ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি : এক সময়ের ভুলুয়া নদী এখন ভুলুয়া খাল। নোয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ এই খাল থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে উত্তোলন হচ্ছে বালু। আর এ কারণে এই খালপাড়ের বাসিন্দারা এখন মহা আতঙ্কে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ভুলুয়া খালের দু’পাড়েই ভাঙন দেখা দিয়েছে। খালের দুই পাড়ের যাতায়াতের পথ, ব্রীজ ও অর্ধশতাধিক বসত বাড়ি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে বালু উত্তোলনের ফলে সদর উপজেলার পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভুলুয়া খালের অন্তত ২০টি স্থানে এ ভাঙন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, স্বয়ং ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক এই বালু উত্তোলন চলছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় গেলে দেখা যায়, খালের দুই পাশের ভিতরের অংশে, পাড়ে যাতায়াতের পথ ও আশেপাশে সড়ক দেবে গেছে। অনেক স্থানে ধসেও পড়েছে। কোথাও কোথাও খালের পাড়ের পার্শ্ববর্তী বসত বাড়িগুলোর অংশ দেবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলার পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের চরমটুয়ায় চিশতিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা মোড় থেকে বাংলাবাজার আশ্রয়ন ও সূর্যনারায়ণপুর বিউটির বাপের খেয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার; সোনাপুর-লক্ষ্মীপুর ভবানিগঞ্জ ডিবি সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক বালু উত্তোলনের কারণে নাজুক অবস্থায়। মারুপের খামার সংলগ্ন ভুলুয়া খালে ২টি ড্রেজার মেশিন চালু অবস্থায় দেখা গেছে।
ভুলুয়া খাল জেলার পশ্চিম ও দক্ষিণ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও অতি প্রাচীন খাল। এক সময় স্থানীয় ভাষায় এটাকে ভালুয়া গাঙ (নদী) বলা হতো। তখন এ খাল ছিল অনেক প্রশস্ত। দুই পাশ দখল হতে হতে বর্তমানে এটি খালে পরিণত হয়েছে। অবশ্য এখনও প্রতিদিন এ খালের জোয়ার-ভাটা দেখা যায়। খালে স্লুইজ থাকার কারণে জোয়ারের পানি আটকে রেখে সেচ কাজেও ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত ২-৩ মাস যাবত ১৯নং পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আলম ড্রেজার মেশিন দিয়ে ভুলুয়া খাল থেকে বালু উত্তোলন করছেন। কয়েকদিন পর পর স্থান পরিবর্তন করে মেশিন দিয়ে খালের অন্তত ২০টি স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয়। ফলে বসত বাড়ির অংশ, খালের পাড় দিয়ে যাতাযাতের পথ ও বালু দিয়ে যে সড়ক ভরাট করা হয়েছে সে সড়কের অংশেও ফাটল ধরেছে। কোথাও কোথাও ধ্বসেও পড়েছে। বালু উত্তোলনের সময় অনেকে চেয়ারম্যানকে নিষেধ করলেও তিনি কথা শুনেননি। উল্টো বাধা দানকারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন।
ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের আবুয়ার ডগি এলাকার এক নারী তার বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি দেখিয়ে বলেন, ‘খালের কয়েক হাত পশ্চিমে তার বাড়িটি। বাড়ির পাশ ঘেঁষে চলাচল করেন আশপাশের মানুষ। সম্প্রতি পাকা করার উদ্দেশ্যে ভুলুয়া খাল থেকে বালু উত্তোলন করে ওই বালু সড়কে ফেলা হয়। এতে চলাচলের পথ ভেঙে পড়ছে। তার বাড়ির পূর্ব পাশটাও ধসে পড়েছে। এই অবস্থা পূর্ব পাশের বাড়ির পুকুর ও পথের। বালু উত্তোলনের সময় বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি শোনেননি। মেশিন লাগানো অবস্থায় ভাঙন ধরলে সেলফোনে চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেন তিনি। কিন্তু চেয়ারম্যান তাকে জানিয়ে দেন- সরকারি কাজ করতে বালু উঠানো হচ্ছে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, ঠিকাদারদের কাছ থেকে সড়কে বালু ফেলার দায়িত্ব নেন চেয়ারম্যান। বালু বাইরে থেকে ক্রয় না করে চেয়ারম্যান অবৈধভাবে খাল থেকে বালু উত্তোলন করছেন। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এখন বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। বিপদগ্রস্তরা বলছেন, আগামী মাস খানেক পরে যখন খাল থেকে পানি আরো কমে যাবে তখন এ ভাঙন আরো তীব্র হবে। পরবর্তীতে পুরো বর্ষ শুরু হলে এসব অংশ সম্পূর্ণ ধসে পড়বে।
বালু উত্তোলনের প্রভাবে ভুলুয়া খালের পাড়ের যাতায়াতের পথসহ ভাঙনের বিষয়টি স্বীকার করেন ১৯নং পূর্ব চরমটুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আলম। তবে এ ভাঙন তার দ্বারা বালু উত্তোলনের ফলে হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘সড়ক পাকাকরণের জন্য তিনি কিছু বালু উত্তোলন করেছেন। তবে ভাঙন শুরু হয়েছে আরো বেশ কয়েকমাস আগ থেকে। তখন তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন না। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন ব্যক্তিগতভাবে বেশি বালু উত্তোলন করেছেন বিধায় এমনটা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, ব্যক্তিদ্বারা বালু উত্তোলনের ফলে যদি ভাঙন বা অন্য কোনো ক্ষতি হয় তা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। এ বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান তিনি ।
বিষয়টি নোয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুরুল ইসলামকে অবহিত করা হলে বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।