বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশালের কড়াইতলা খালে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় চিকিৎসকের নিখোঁজ মেয়ে সাহেরী আক্তারের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার বেশ কয়েক ঘণ্টা পর ওই খালেই লাশ ভেসে ওঠে।
রোববার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়।
বরিশাল বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, সকাল ৯টার দিকে লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে আধা কিলোমিটার দূর থেকে লাশটি উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়।
এর আগে শনিবার দিনভর ওই খালের ১০ কিলোমিটার জুড়ে উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেন বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের নৌ বিভাগের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোলা থেকে একটি স্পিডবোটে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন রাজধানী ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. গোলাম সরোয়ার জাহান, তার স্ত্রী নেশপাতি বেগম, মেয়ে সাহেরী আক্তার ও ভাগিনা খোকন এবং ডা. প্রদীপ কুমার বণিক। রাত ৮টার দিকে বরিশালের কীর্তনখোলা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর সংযোগের কড়াইতলা খালের সাহেবের হাট নামক স্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোটের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এ সময় চিকিৎসক পরিবারকে বহনকারী স্পিডবোটটি উল্টে যায়। এতে তিনজন আহত হন এবং মা ও মেয়ে নিখোঁজ থাকেন। রাত ৯টার দিকে নেশপাতি বেগমের লাশ উদ্ধার করে ডুবুরি দল।
এ ঘটনায় শনিবার ওই চিকিৎসক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে বরিশাল ঘাটের স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি মো. কালাম শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামানকে আটক করে বন্দর থানা পুলিশ।

