নিউজ ডেস্ক : গতকাল ০৭ ই ডিসেম্বর হতে ১০ ই ডিসেম্বর/২০১৬ পর্যন্ত ০৪ (চার) দিন ব্যাপী সারাদেশে সরকারীভাবে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কর্তৃক ০৭ ই ডিসেম্বর সকাল ১০:০০ ঘটিকায় সমিতির ক্যাম্পাস থেকে প্রধান অতিথি সিলেট-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এর নেতৃত্বে অত্র পবিসের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি সমিতি প্রাঙ্গণ থেকে কদমতলী পয়েন্ট (মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর) প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সমিতি ক্যাম্পাসে ফিরে আসে। র্যালীর পর মাননীয় প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি জনাব মোঃ কামরুল আহসান বিপিএম, ডিআইজি, সিলেট রেঞ্জ এবং সমিতির কর্মকর্তা/কর্মচারীদের উপস্থিতিতে বেলুন উড়িয়ে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সিলেট-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ কামরুল আহসান বিপিএম, ডিআইজি, সিলেট রেঞ্জ, জনাব মোঃ নুরুল হক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বাপবিবো, সিলেট জোন, জনাব মোঃ জগলুল হায়দার, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকল্প বিভাগ, বাপবিবো, সিলেট, অত্র পবিসের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুল আলমসহ সমিতি বোর্ডের এলাকা পরিচালকবৃন্দ। উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট পবিস-১ সমিতি বোর্ডের সম্মানিত সভাপতি জনাব সৈয়দ মকবুল হোসেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে অত্র সমিতির লাইন টেকনিশিয়ান জনাব মোঃ মনিরুল ইসলাম খান কর্মচারীদের পক্ষ হতে বক্তব্য রাখেন। তিনি সমিতির কার্যক্রম বিশেষ করে রাইট অব-ওয়ে এবং ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মহোদয় তার বক্তব্যে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সপ্তাহ উপলক্ষ্যে উপস্থিত প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন বাংলাদেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫,০০০ মেঃওঃ যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় বেশী। যার ফলে বর্তমানে লোড শেডিং নাই। তিনি বলেন সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বর্তমানে ১৪টি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে ০৮টি উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। আরো ১৩টি সাব-স্টেশনের কাজ চলমান রয়েছে। সবকটি সাব-স্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে। চলতি ডিসেম্বর/১৬ মাসে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের কাজ শেষ হবে। আগামী মার্চ/২০১৭ মাসে দক্ষিণ সুরমা, জুন/২০১৭ মাসে বিশ্বনাথ, বিয়ানীবাজার, ডিসেম্বর/২০১৭ মাসে গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জ এবঙ ডিসেম্বর/২০১৮ মাসে জকিগঞ্জ ও ওসমানীনগরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হবে।
বিশেষ অতিথি জনাব মোঃ কামরুল আহসান বিপিএম, ডিআইজি, সিলেট রেঞ্জ তার বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশে এখন বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অনেক গুনগত পরিবর্তন এসেছে। এই গুনগত পরিবর্তনের অংশীদার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী। পুলিশ বিভাগের মতই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা/কর্মচারীরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে সচল রেখেছেন। এজন্য তিনি উপস্থিত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিলেট-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন ২০০৯ সালে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩২০০ মেঃওঃ। বর্তমানে যা ১৫০০০ মেঃওঃ এ উন্নীত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি অর্জনের পথে রয়েছে। তিনি বলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা/কর্মচারীরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিতরণ ব্যবস্থায় কোন ত্রুটি হলে তারা অত্যন্ত দক্ষতা এবং দ্রুততার সাথে ত্রুটি মেরামতসহ লাইন চালু করেন। এজন্য তিনি উপস্থিত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সেরা বিদ্যুৎ গ্রাহক (আবাসিক) জনাব সাহেদ আহমদ, ওসমানীনগর, সেরা বিদ্যুৎ গ্রাহক (বাণিজ্যিক) গ্রামীন ফোন লিঃ, সেরা বিদ্যুৎ গ্রাহক (শিল্প) ব্যবস্থাপক, মনিপুরী চা বাগান, ফেঞ্চুগঞ্জ, সেরা বিদ্যুৎ কর্মচারী জনাব মোঃ অহিদুল হক, লাইন টেকনিশিয়ান, সেরা বিদ্যুৎ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আলাউদ্দীন, এজিএম (ওএন্ডএম), সিলেট পবিস-১ নির্বাচিত হওয়ায় প্রধান অতিথির নিকট হতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন।

