গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে।শিশুটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পালানোয় সহযোগিতা করায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালককে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম শহিদুল ইসলাম। তিনি গাজীপুর শহরের শহীদ ক্যাডেট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
বিদ্যালয়টির আবাসিক শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবার সূত্র জানায়, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসীর ছেলেকে গত বছর তার আত্মীয়ের মাধ্যমে গাজীপুর শহীদ ক্যাডেট একাডেমিতে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরে তাকে বিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে রাখা হয়। গত ২২ নভেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আবাসিকের এক শিক্ষক শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে ভবনে থাকা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এসে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে পিটুনি দেয়। পরদিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীকে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য নানা ভয়ভীতি দেখায়। পরে গত শনিবার ভুক্তভোগী শিশু গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
এই বিষয়ে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সহায়তার অভিযোগে বুধবার রাতে ওই একাডেমির পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে ছাত্রের বাবা ওই শিক্ষক ও পরিচালকের নাম উল্লেখ করে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ বলেন, শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাবে।

