ঢাকাSunday , 20 November 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রামেক হাসপাতালের ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

Link Copied!

rajshahi_internরাজশাহী প্রতিনিধি : ইন্টার্নদের হাতে প্রায় দিনই লাঞ্ছিত হচ্ছেন রোগীর স্বজনরা। কখনও কখনও স্বজনদের পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন তারা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার ইন্টার্নদের বিভিন্ন কার্যকলাপের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। এতে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও রামেক হাসপাতালে ইন্টার্নদের হাতে লাঞ্ছিত ব্যক্তি ও বিভিন্ন সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ চলাকালে তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, রামেক হাসপাতালে গত এক বছর যাবৎ চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বেপরোয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের পিটিয়ে আহত করে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যেখানে মানুষ সুস্থ হতে যায়, সেখানেই তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তারা বলেন, হাসপাতালে কোনো রোগী গেলে তার চিকিৎসা হচ্ছে না। বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। তাই মৃত রোগীর স্বজনরা বিক্ষোভ করতেই পারেন। কারণ চিকিৎসা পাওয়া তাদের অধিকার। কিন্তু বিক্ষোভ করলেই ইন্টার্নরা তাদের ওপর হামলে পড়ছে। একদিকে পড়ে থাকছে স্বজনের লাশ, অন্যদিকে তাদের তুলে দেওয়া হচ্ছে পুলিশের হাতে। পুলিশও বিনা কারণে তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, রামেক হাসপাতালের ইন্টার্নরা ভুল চিকিৎসা দিয়ে রোগীদের হত্যা করছে। এর প্রতিবাদ করলে রামেক ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপুর নেতৃত্বে বার বার রোগীর স্বজনদের ওপর হামলা হচ্ছে। এদের নেতৃত্বে দিচ্ছেন ডা. মহিবুল ইসলাম ও রইস উদ্দিন। তারা চিকিৎসক নয়, তারা সন্ত্রাসী। তারা মাদকসেবী। কোনো মাদকসেবীর সুস্থ মানসিকতা থাকে না। তাদের দিয়ে চিকিৎসাও হয় না। অবিলম্বে এদের হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। গত ১৩ নভেম্বর হাসপাতালের আট নম্বর ওয়ার্ডে মারা যান রাজশাহীর পবা উপজেলার মদনহাট এলাকার মহসিন আলী (৭৫)।
মানববন্ধনে মহসিন আলীর স্ত্রী রাহিমা বিবি (৬৫) উপস্থিত হয়ে ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, ওই দিন তার দুই ছেলে হাসপাতালে বিক্ষোভ করলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ছাড়া তাকেও ওই দিন পিটিয়ে আহত করা হয়। হাতের ক্ষতস্থান দেখিয়ে রাহিমা বলেন, সেদিন একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের হাতে পিস্তল ছিল। ছেলেরা বিক্ষোভ করলে ওই ইন্টার্ন গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তখন ছেলেরা বলেন, মারেন, বাপরে মারলেন, আমাদেরকেও মারেন। এরপরই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়্গ।
তিনি জানান, ৮-১০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক তার দুই ছেলেকে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকিয়ে মারপিট করেন। এতে মাথা ফেটে যায় তাদের। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আর তাদের বাবার লাশ পড়ে থাকে মর্গে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, রাজশাহী জেলা জজ আদালতের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম প্রমূখ। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সবগুলো স্বজন লাঞ্ছনার ঘটনা তদন্ত করে দোষিদের দ্রুত প্রত্যাহার করার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তারা।