ঢাকাSunday , 25 September 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক-খামার একসঙ্গে রাখার প্রস্তাবে ‘না’

Link Copied!

polli-bankবিশেষ প্রতিবেদন : একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক একসঙ্গে চালু রাখার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সমন্বয় এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বলা হয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির দারিদ্র দূরীকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। এর সফল বাস্তবায়ন হলে তা রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ সহ এসডিজি অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ফলে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় করে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সম্প্রসারণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়। এরমধ্যে বৈঠকে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক উভয় এক সঙ্গে চালু রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক উভয়ই এক সঙ্গে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকল্প এবং ব্যাংক কার্যক্রম কীভাবে সমন্বয় হবে তার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংককে প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, বিষয়টিতে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিষয়টি অসম্ভব বলে মন্তব্য করে তিনি তা নাকচ করে দিয়েছেন।
এছাড়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সম্পদ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে হস্তান্তর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। ফলে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সম্পদ ২০২০ সালের মধ্যে বা সরকার নির্ধারিত সময়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে হস্তান্তর করার সুপারিশ করা হয়। প্রয়োজনে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আইনে এ সংক্রান্ত সংশোধন আনার সুপারিশ করা হয়। অর্থমন্ত্রী এটা হতেই পারে না বলে মন্তব্য করেছেন। ফলে এ দু’টি সুপারিশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়াও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইনের বিধান অনুসারে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের পরিণত সমবায় সমিতিগুলোর দায়িত্ব পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক গ্রহণ করবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অনুমোদিত ৪৮৫টি শাখার কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব চালু করতে হবে। মাস ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে শাখাসমূহ চালু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমিতিসমূহকে সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধন গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছিল। এতে যদি প্রকল্পের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট ক্ষুন্ন হয় বা সমিতিসমূহ দ্বৈত ব্যবস্থাপনার সম্মুখীন হতে পারে মর্মে প্রতীয়মান হয় তবে এ বিষয়টি পরবর্তী উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
গত ২২ জুন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকটি মূলত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের স্থায়ী রূপ। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ জুন। অর্থাৎ প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮ দিন আগেই এটি বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
সূত্র জানায়, ৪৮৫টি শাখা নিয়ে যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলায় নিজস্ব ভবনে ব্যাংকটির শাখা চালু হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রতি উপজেলায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা খোলার কার্যক্রমের প্রথম ধাপ হিসেবে প্রথম ধাপে ১০০টি শাখা খোলা হচ্ছে।
২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের অনুষ্ঠানে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আইন পাস হয়। ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’কে স্থায়ী রূপদান করে বিশেষায়িত ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত ও ২০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্ষুদ্রঋণ মডেলের আদলে বিশেষায়িত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে ৯৮ কোটি টাকা প্রকল্পের আওতায় গঠিত সমিতির শেয়ারহোল্ডারদের।
তবে ব্যাংক সময়ে সময়ে সরকারের অনুমোদনক্রমে সরকারি গেজেট ও প্রজ্ঞাপন দ্বারা অনুমোদিত মূলধন অপরিবর্তিত রেখে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবে। পরিশোধিত মূলধনের ২০০ কোটি টাকার মধ্যে ৫১ শতাংশ হবে সরকারের আর বাকি ৪৯ শতাংশ থাকবে প্রকল্পের আওতায় গঠিত ঋণ গ্রহীতা শেয়ার হোল্ডারদের।
অনুমোদিত মূলধন ১০০ টাকা মূল্যমানের ১০ কোটি শেয়ারে বিভক্ত থাকবে। ব্যাংক পরিচালনায় ১৫ সদস্যের বোর্ড আছে। এর মধ্যে আটজন সরকার কর্তৃক মনোনীত। বাকি সাতজন সদস্য নির্বাচিত হন প্রশাসনিক বিধি দ্বারা শেয়ার হোল্ডারদের প্রতিনিধি হিসেবে। সরকার কর্তৃক নিযুক্ত পরিচালকদের মাঝ থেকে একজন চেয়ারম্যান হয়ে থাকেন। এ ব্যাংকের পরিচালকদের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে থাকেন।