বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ডা. শেখ মো. আরবাব হোসেন নামে এক চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় এক কর্মচারীর যোগদানপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেয় তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান দুই সহসভাপতির নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে।
পরে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামলা দেন।
হাসপাতাল সূত্রমতে, বিগত জোট সরকারের সময় আব্দুল্লাহেল বাকী নামে এক ব্যক্তি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ফিডারমিস্ত্রি হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তিনি স্ববেতনে প্রধান সহকারী (হেড ক্লার্ক) হিসেবে নিয়োগপত্র নিয়ে এসে শজিমেকে যোগ দেন। এরপর সেখানে নানা অনিয়মের অভিযোগে তাকে শজিমেক থেকে প্রথমে তাকে বরিশাল, পরে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়।
সম্প্রতি আব্দুল্লাহেল বাকী একইভাবে স্ববেতনে প্রধান সহকারী হিসেবে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বদলির আদেশ নিয়ে আসেন। গেল মাসের ১৬ অক্টোবর বদলির কাগজ নিয়ে হাসপাতালে গেলেও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. জিয়াউল আহসান তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি। এরমধ্যে গতকাল (৫ নভেম্বর) বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে নতুন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগ দেন ডা. শেখ মো. আরবাব হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকালে নতুন তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে দেখা করে আব্দুল্লাহেল বাকী যোগদানের আবেদন করেন। কিন্তু তার যোগদানের সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় নতুন তত্ত্বাবধায়ক তাকে নতুন করে অফিস আদেশ এনে যোগদান করতে বলেন।
ডা. শেখ মো. আরবাব হোসেন অভিযোগ করে জানান, আব্দুল্লাহেল বাকী হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে ১০ -১২ জন যুবক তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা তাকে লাঞ্ছিত করে ও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় জিম্মি করে যোগদানপত্রে স্বাক্ষর নেয়।
ডা. শেখ মো. আরবাব আরো জানান, ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী যুবকরা অশালীন ভাষায় গালাগালি করে। এসময় তারা হুমকি দিয়ে বলে, ‘এই হাসপাতালে কাজ করতে হলে আমাদের কথা মতো চলতে হবে।’
পরে বিষয়টি তিনি বিএমএন ও স্বাচিপ নেতাদের জানান।
বগুড়া জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. রেজাউল আলম জুয়েল বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই স্বাচিপ নেতারাসহ আমি সেখানে যাই। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক ও ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে পৃথক ভাবে ঘটনা জেনেছি।
ডা. জুয়েল আরো বলেন, ‘হাসপাতালের নিজস্ব বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপ করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। এবিষয়ে পরবর্তীতে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

