নিজস্ব প্রতিবেদক : লেখক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ষোল শ’ মানুষও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প চায় না। এটা জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এ প্রকল্পে যারা জড়িত, তাদের নাম ১০ থেকে ১৫ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সঙ্গে উচ্চারিত হবে।’
শনিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।
‘রামপাল চুক্তি ছুড়ে ফেল, সুন্দরবন রক্ষা করো’এ স্লোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধীরা।
তেল-গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে বাম ধারার বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তা প্রমাণ করা হয়েছে। আমাদের এই সংগ্রাম বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে নয়, এই সংগ্রাম সুন্দরবন রক্ষার জন্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুন্দরবন দুটোই চাই। তাই রাজনীতির পরিবর্তন করে হলেও রামপাল প্রকল্প বন্ধ করা হবে।’
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেছেন, ‘দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থকে রক্ষার জন্য এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে নানা উন্নয়নের চিত্র দেখানো হচ্ছে। ভাড়া করা বিশেষজ্ঞরা শোনাচ্ছেন, সুন্দরবন ধ্বংস হবে না। যখন বুড়িগঙ্গার দুর্গন্ধ দূর করতে পারেন না, খালে পড়ে গেলে শিশু উদ্ধার করতে পারেন না, হাতিরঝিলে নাকে রুমাল চেপে যেতে হয়, তখন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর সুন্দরবন রক্ষা হবে, তা আমরা মানি না।’
বক্তব্য শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বাম পাশে একটি মুক্ত ক্যানভাসের উদ্বোধন করা হয়। এখানে মন্তব্য করতে পারবেন যে কেউ।
অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পাটি, গণসংহতি আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, সুজন, নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছেন।

