অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : তিন কোটিরও বেশি গ্রাহককে মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের দ্বিতীয় প্রান্তিকের রাজস্ব গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলালিংকের ২০১৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলালিংকের সিইও এরিক অস বলেন, ‘আমাদের দেয়া ডিজিটাল সেবাসমূহ, যেগুলো ২০১৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই সাফল্য অর্জনে সহায়ক হয়েছে সেগুলো নিয়ে গ্রাহকের মাঝে এমন সাড়া দেখে আমরা উৎসাহিত হয়েছি। যেহেতু আমরা সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে এগিয়ে যাচ্ছি, এ কারণে গ্রাহকদের সেরা উন্নততর ডিজিটাল সেবাসমূহ উপহার দিতে আমরা প্রত্যয়ী।’
প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ২০১৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে, বাংলালিংকের মোট রাজস্ব গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। রাজস্ব বৃদ্ধির মূল কারণ ছিল ভয়েস সেবাতে ক্রমাগত রাজস্ব বৃদ্ধি, যা ভয়েস ট্রাফিক বৃদ্ধির কারণে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে এবং এরই সাথে ইন্টারনেট সেবায় ৬০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি হয়েছে।
ইন্টারনেট রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে ৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ১৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি; এর পাশাপাশি থ্রিজি কভারেজ বিস্তৃতি এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার ফলেও ইন্টারনেট রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও বাংলালিংকের ARPU (গ্রাহক প্রতি গড় রাজস্বের পরিমাণ) বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ শতাংশ, যার পেছনে রয়েছে বর্ধনশীল ভয়েস এবং ইন্টারনেট ব্যবহার।
গত বছরের একই সময়ের সাথে এই বছরের রাজস্ব বৃদ্ধির তুলনামূলক ধীর গতির পেছনে রয়েছে এ বছরের জুন মাসের প্রথম থেকে রিচার্জের ওপর ২ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং এ বছরের মার্চ থেকে ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ।
এই প্রান্তিকে বাংলালিংকের কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য ছিল চলমান সিম ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। সরকার কর্তৃক নির্দেশিত এই প্রক্রিয়া ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়। এতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের তাদের সকল গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নির্ভুল রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয় যেন সঠিক জবাবদিহিতা এবং বর্ধিত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
বাংলালিংক এই মোবাইল নিরাপত্তা উদ্যোগে এগিয়ে থাকা অপারেটরদের মধ্যে একটি এবং বাংলালিংক এর মোট গ্রাহকের ৯৩ শতাংশকে ভেরিফিকেশনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়, এই ৯৩ শতাংশ গ্রাহক বাংলালিংকের রাজস্বের প্রায় ১০০ ভাগের প্রতিনিধিত্ব করে। এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি দৃঢ় এবং নিরাপদ গ্রাহক শ্রেণি পাওয়া যাবে যেখান থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নতুন রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা বাংলালিংকের ডিজিটাল কর্মপরিকল্পনার একটি অংশ।
এই কার্যক্রমের কারণে অনিবন্ধিত সিমসমূহ এ বছরের জুন থেকে বন্ধ হয়ে যায় এবং গ্রাহকদের নতুন সিম ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা বিরূপ প্রভাব পড়ে। এর ফলে ২০১৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রাহক সংখ্যা ৩ শতাংশ হ্রাস পায়।
২০১৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পারফরমেন্স ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রাম এবং সিম ভেরিফিকেশন জাতীয় এককালীন ব্যয় ব্যাতিত EBITDA (আর্নিংস বিফোর ইন্টারেস্ট, ট্যাক্সেস, ডিপ্রেসিয়েশন এন্ড অ্যামোরটাইজেশন) ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এই উন্নতি প্রধানত মানবসম্পদ এবং ব্যবসায়িক ব্যয়ে পারফরমেন্স ট্রান্সফরমেশন উদ্যোগের কারণে অর্জিত হয়েছে। ফলাফলস্বরুপ underlying EBITDA ৪৭.৫ ভাগে দাঁড়িয়েছে, যা ৫.৬ percentage point বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
২০১৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গত বছরের তুলনায় বাংলালিংক-এর মূলধনী ব্যয় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৬০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে যেখানে এলটিএম মূলধনী ব্যয় রাজস্ব অনুপাত ছিল ২৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেষে ৫০ শতাংশ গ্রাহককে থ্রিজি কাভারেজের আওতায় আনার মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাংলালিংক বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের শেষে বাংলালিংকের থ্রিজি কভারেজের বিস্তৃতি ছিল ৩৩ শতাংশ ।

