চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগের অধিভুক্ত এক বছরের কোর্স বিপিএড। কোর্সটিতে ২০১৫ সালের শিক্ষাবর্ষে ১৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। এর মধ্যে মাঝ পথে ছিটকে পড়েন এক শিক্ষার্থী, বাকি ১৭ জন গত বছরের (২০১৫) ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শেষ করেন। কিন্তু বিভাগটি ৭ মাস পার হলেও এ ১৭ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি।
অথচ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত বিভাগে ১২ দিনের মাথায় ফলাফল প্রকাশ করে রেকর্ড সৃষ্টি করে। ১২ দিনেই ফল প্রকাশিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের বাহবা পেয়েছিল ওই বিভাগ। এমনকি নানান সুনামও অর্জন করেন তারা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের বিপিএড কোর্সের ১৭ জন শিক্ষার্থীর ৭ মাসেও ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি! তার মানে কি ওই বিভাগটি চায় না শিক্ষার্থীদের বাহবা পেতে, বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের নজরে আসতে।
এদিকে বিপিএড কোর্সের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক ও বিভাগ পরিচালকের উদাসীনতাই প্রকাশ হচ্ছে না ফলাফল। পরীক্ষা দিয়ে সাত মাস পার হয়ে গেলেও ফলাফল প্রদানের ক্ষেত্রে তেমন কোনো গুরুত্ব তারা পায়নি। একাধিকবার বিভাগ পরিচালক ও শিক্ষককের কাছে যোগাযোগ করা হলেও তেমন কোনো সাড়া দেয়নি তারা।
ফলাফল প্রকাশ না হওয়ার ২০১৬ সালের নিবন্ধন পরীক্ষাসহ বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউও দিতে পারেনি বলে অভিযোগ ভোক্তভোগী শিক্ষার্থীদের। এমনকি এক বছর এমনিতেই নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপিএড কোর্সের শিক্ষক নিয়োগে সার্কুলার দিয়েছিল। কিন্তু ফলাফল না হওয়ায় আবেদন করতে পারিনি। এছাড়া এ বছরের নিবন্ধন পরীক্ষাও একই কারণে দিতে পারিনি। দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই কোর্সের অনেক চাকরির পদ খালি আছে আজও। ফলাফল না হওয়ায় আবেদন করতে পারছি না।’
বিভাগ পরিচালক ও শিক্ষককের উদাসীনতাই ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জানা যায়, শারীরিক শিক্ষা বিভাগে শিক্ষক আছেন পরিচালকসহ ছয় জন। কিন্তু পরিচালকের সমন্বয়হীনতা ও শিক্ষককের মধ্যে রেষারেষির কারণে দীর্ঘদিন ধরে ফলাফল প্রকাশ হচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শারীরিক শিক্ষ বিভাগের উপ-পরিচালক আনিসুল আলম কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে ওই বিভাগের পরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) মো.মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আসলে কিছু কারণে এতোদিন ফলাফল প্রকাশ হয়নি। তবে আগামী ১০ তারিখের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ হবে বলে আশা করছি।’
কি কারণে ৭ মাসেও ফলাফল প্রকাশ হয়নি? এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

