ঢাকাTuesday , 2 August 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুমুখে জাপানিরা

Link Copied!

japaniআন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠ্যক্রম সিলেবাস তৈরি করা হয় বেশ হিসেব নিকেশ করে। সিলেবাসের বিভিন্ন স্থান জুরে থাকে শুধু সময় ব্যবস্থাপনার কথা এবং আনুষঙ্গিক নানান বিষয়। মানুষ কিভাবে তার সকল কাজের মাঝেও নিজ ও পরিবারের জন্য সময় বের করবে এই শিক্ষাটাই মূলত দেয়ার চেষ্টা করা হয় পশ্চিমা দেশগুলোতে। যে কারণে আমরাও দেখতে পাই, পশ্চিমা তরুণ তরুণীদের মধ্যে কর্মোদ্যম যেমন অনেক, তেমনি জীবনকে উপভোগ করার প্রবনতাও বেশি। কিন্তু প্রাচ্যের দেশ জাপানের সিলেবাসে ব্যক্তিগত জীবনতো দূরের কথা, কর্মময় জীবনকে গুছিয়ে নেবারও কোনো কথা নেই। জাপানের সিলেবাস মানেই শুধু কাজ আর কাজ।
জাপানের এই কর্মময়তার মাঝে যে শব্দগুলো মূলত বেশি বেশি চর্চা হয়, তা হলো ‘ডেথ বাই ওভারওয়ার্ক’। দেশটির নিজস্ব ভাষায় একে বলা হয় ‘কারোশি’। এই কারোশি শব্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জাপানের ভয়ঙ্কর গেরিয়া পদ্ধতিতে কাজের ধারনা। এই কাজের পদ্ধতি এতটাই ব্যস্ত যে, জাপানিরা তাদের কাজ নিয়ে একে অপরের সঙ্গে কথাও তেমন একটা বলে না। এমনও কিছু মানুষ দেখতে পাওয়া যাবে, যারা মাসের পর মাসে কোনো কথাই বলছে না, শুধু মুখ বুজে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাচ্ছেন কাজের জন্য। প্রতি বছর এমন অতিরিক্ত কাজের চাপে জাপানিরা নিজেদেরকে মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে বলে অনেক গবেষক মনে করছেন।
নিজেদের ব্যস্ততার ভেতর দিয়ে যারা মৃত্যুমুখে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে একজন কিয়োটাকা। প্রায় এক বছর আগে জুলাই মাসে ৩৪ বছর বয়সী কিয়োটাকা আত্মহত্যা করেন। অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংগুলো দেখাশোনার কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করতেন। আর এই কাজ করতে গিয়ে তিনি সপ্তাহে সময় দিতেন প্রায় নব্বই ঘণ্টারও বেশি। তার এক সহকর্মীর সঙ্গে কথা হলে জানা যায়, ‘অনেকেই তাকে দেখে অবাক হয়ে যেত যে, সে এত পরিশ্রম কিভাবে করতে পারে।’ কিয়োটাকার বাবা কিয়োশি সেরিযাওয়া নিজ পরিবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ওরা সবাই বলতো যে, তারা এমন কাউকে দেখেনি যার নিজের কোম্পানি না হওয়া স্বত্ত্বেও এতটা পরিশ্রম করছে।
অতিরিক্ত কাজ করা জাপানের জন্য এখন একটা সংস্কৃতি হয়ে দাড়িয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হার এবং অর্থনৈতিক অবরোধের পর দেশটির জনগণের মধ্যে এমন আত্মবিধ্বংসী প্রবনতা বেড়ে যায়। প্রচুর পরিশ্রমের ভেতর দিয়ে অর্থনৈতিক অবরোধকে ঠেকিয়ে দিয়ে জাপানকে আবারও মাথা উঁচু করে দাড়াতে যদিও এই জনগণই সহায়তা করেছে, কিন্তু এতে জনগণকে নিদারুণ মূল্যও শোধ করতে হচ্ছে। দেশটির সংস্কৃতিতে এমন পরিবর্তন এসেছে যে, কাজের বাইরে কোনো জাপানি যে নিজের জন্য সময় বের করবে তা হবার নয়। কাজ শেষ হলেও, কাজ সম্পর্কিত উচ্চপদস্থদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালানোকেও কাজ হিসেবে সঙ্গায়িত করা হয় দেশটিতে।
১৯৭০ সালের দিকে জাপানে শ্রমিকদের মজুরি ছিল খুবই কম এবং তৎকালীন সময়ে জাপানি শ্রমিকরা অধিক মজুরির দাবিতে আন্দোলনও করেছিল। ১৯৮০ সালের দিকে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারন করে। ওই সময় জাপান বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং ওই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি জাপানিই সামিল হয়। ১৯৯০ সালের পর এই প্রক্রিয়া যেন আরও এগিয়ে যায়। সেসময় কোম্পানিগুলো নতুন নতুন শ্রমিকদের নিয়োগ দিতে থাকেন, যাতে কোনোভাবেই উৎপাদন বন্ধ না হয়ে যায়।