শরীয়তপুর প্রতিনিধি : উজানের বন্যার পানি নেমে আসায় শরীয়তপুর জেলার প্রধান প্রধান নদনদীর পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মা নদীর পানি বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জাজিরা ও নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমভাবে বেড়ে গেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উজানে বন্যার পানি নেমে আসায় এবং টানা বর্ষণের ফলে শরীয়তপুর জেলার প্রধান প্রধান নদনদী পদ্মা মেঘনা কীর্তিনাশা ও আড়িয়াল নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৩০ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা, কুন্ডেরচর, পালেরচর, বড়কান্দি, বিলাসপুর নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, চরআত্রা নওয়াপাড়া ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে নিচু স্থানের বাড়ি ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষ।
এসব এলাকায় অধিকাংশ স্কুল বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাড়ি ঘরের লোকজন ঘরের ভিতরে মাচায় অথবা চৌকির উপর বসবাস করছেন। বাঁশের সাকো দিয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে চলাফেরা করছে। আলগা চুলায় রান্না করে কোনো রকম খাওয়া দাওয়া করে বেঁচে আছেন। বাথরুম ডুবে যাওয়ার কারণে পায়খানা প্রস্রাব করা খুবই সমস্যা হচ্ছে। নলকূপগুলো ডুবে যাওয়ার কারণে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কলার ভেলা বা নৌকা ছাড়া তাদের চলাফেরার কোনো উপায় নেই।
গবাদি পশু নিয়ে আরো বেশি বিপাকে পড়েছে এখানকার মানুষেরা। গো খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শত শত একর জমির বীজতলা ও আউশ আমন ধান তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি অব্যাহত ভাবে বৃদ্ধি পেলে এর ভয়াবহতা আরো দেখা দেবে। এসব এলাকায় বন্যার পাশাপাশি নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে বাড়ি ঘর সরিয়ে নিচ্ছে এলাকার লোকজন।
এদিকে এ পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণ সাহায্য সহযোগিতা তো দূরের কথা কেউ ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতেও আসেনি। তবে বেসরকারি সংস্থা এসডিএস ইতোমধ্যে তাদের সকল কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
পালেচর রাঢ়ি কান্দি গ্রামের সামাদ সেক বলেন, ‘৭ থেকে ৮দিন ধরে বন্যার পানিতে বাড়ি ঘর তলিয়ে গেছে। চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া খুবই কষ্ট হচ্ছে।’
রাঢ়ি কান্দির মিনারা বেগম ও ধলু সরদার বলেন, ‘বন্যার পানিতে পানির কল ও পায়খানা ডুবে গেছে। এতে আমাদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে। অনেক দূর থেকে কলের পানি ভেলায় করে এনে খাই। ঘরের ভিতরে মাচায় বা চৌকিতে আলগা চুলায় পাক করে কোনো রকম খেয়ে বেঁচে আছি। আমাদের কেউ কোনো খোঁজ খবর নেয়নি।’
স্কুলছাত্রী ডালিয়া বলেন, ‘স্কুল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। স্কুলে যাওয়ার রাস্তাও তলিয়ে গেছে। আমরা এখন স্কুলে যেতে পারছিনা। তাই স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে।’
জাজিরা বিলাসপুর ইউনিয়নের কাজিয়ারচর গ্রামের মেছের মাস্টার জানান, ‘বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমাদের বাপ দাদার ভিটে মাটি ছেড়ে অন্যত্র ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ভাই ব্রাদার কে কোথায় যাবে থাকবে বুঝে উঠতে পারছিনা।’
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, বন্যার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

