অর্থনীতি ডেস্ক : উচ্চমানের পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবা দিয়ে গ্রাহকদের মন জয় করতে চায় ওয়ালটন। ২০১৬ সালকে তারা ‘সার্ভিস ইয়ার’ বা ‘সেবাবর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ওয়ালটন শুরু করেছিল নতুন বছর। বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের কাছে থেকে অভাবিত ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় সম্প্রতি এ বছরকে তারা সার্ভিস ইয়ার ঘোষণা করে।
ওয়ালটন সূত্র জানায়, শুধু উচ্চ মানের পণ্য নয়, সর্বোচ্চমানের বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে ওয়ালটন। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে কতটা গ্রাহকবান্ধব হওয়া যায় তার দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চায় ওয়ালটন। সেবার মান কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সে বিষয়ে গ্রাহকদের পরামর্শ চেয়েছে সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, আফটার সেলস সার্ভিস বিষয়ে দুটি ইমেইল আইডি ডেডিকেট করেছে ওয়ালটন। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে পরামর্শ ও ধারণা নেয়া হচ্ছে। আইডি দুটি হচ্ছে ‘support@waltonbd.com’ এবং ‘info@waltonbd.com’ কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা পরামর্শ এবং আইডিয়া দিয়ে সাহায্য করবেন, ওয়ালটন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।
ওয়ালটন সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের প্রধান ও ওয়ালটন গ্রুপের অতিরিক্ত পরিচালক মো. নিয়ামুল হক জানান, চলতি বছরের শুরু থেকেই আফটার সেলস সার্ভিসে ব্যাপক উন্নতি করেছেন তারা। সকল প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে দিনের কাজ দিনেই শেষ করতে। এ জন্য তাদের প্রণোদনা ভাতা দেয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় লোকবল বাড়ানো হয়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। আরো লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ মানের বিক্রয়োত্তর সেবার চ্যালেঞ্জ নিয়েছি আমরা। ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও হোম এ্যাপ্লায়েন্স পণ্যের ক্ষেত্রে ওয়ালটন কতটা গ্রাহকবান্ধব হয়ে উঠতে পারে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। গত ছয় মাসে সফল হয়েছি। আশা করি চলতি বছরেই বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রে একটা রোল মডেল হয়ে দাঁড়াবে ওয়ালটন’।
ফ্রিজ, টিভি, এসি, মোবাইল ফোন সেট, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ইত্যাদি পণ্যের সার্ভিসিংয়ে বাংলাদেশে একমাত্র ওয়ালটন গ্রুপেরই রয়েছে আইএসও সনদ বিশ্বমানের মেশিনারিজ ও উচ্চ শিক্ষিত প্রকৌশলী এবং টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে বিক্রয়োত্তর সেবা দিয়ে ওয়ালটন অর্জন করেছে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
গত বছর প্রায় ১৬০০ প্রকৌশলী ও টেকনিশয়ান কাজ করতো সার্ভিস সেন্টারে। বর্তমানে সেখানে কাজ করছেন দুই হাজার চারশরও বেশি প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান। গ্রাহকদের হাতের নাগালে দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা পৌঁছে দিতে প্রায় ৪৩টি জেলা শহরে ৬২ পূর্ণাঙ্গ সার্ভিস সেন্টার চালু রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২৮৪টি প্লাজাতেও আছে বিক্রয়োত্তর সেবার ব্যবস্থা। শিগগীরই চালু হচ্ছে আরো ৯টি সার্ভিস সেন্টার।
ওয়ালটনের গ্রাহকরা বর্তমানে যে কোন সময় কল সেন্টারে ফোন করে (হটলাইন নম্বর ১৬২৬৭) ৩৬৫ দিনই পাচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত সেবা। কল সেন্টার প্রতিনিধিগণ গ্রাহকের কথা শুনে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কল সেন্টারে আসা সমস্যাগুলো নিষ্পত্তি এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যবক্ষেণ করছে মনিটরিং টিম। যে কোনো সোর্স থেকে তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়েও সার্ভিস দিচ্ছে ওয়ালটন।
খুব শিগগিরই বিক্রয়োত্তর সেবায় নতুনত্ব নিয়ে আসছে ওয়ালটন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবা হবে অনলাইন ভিত্তিক। গ্রাহক ঘরে বসেই জানতে পারবেন তার পণ্যের বর্তমান অবস্থা। সেবা পেতে কত সময় লাগবে, পণ্যটি এখন কোন পর্যায়ে আছে, কখন ডেলিভারি ইত্যাদি বিষয় জানা যাবে অনলাইনেই।

