ঢাকাMonday , 11 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিকারি’র শিকার ও স্বীকার

Link Copied!

sikariবিনোদন ডেস্ক : যৌথ প্রযোজনার সব থেকে আলোচিত ছবি ‘শিকারি’ স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখতে গিয়ে টিকিট না পেয়ে ফিরে আসতে হলো। বাংলা সিনেমা দেখার জন্য এতো বড় লাইন! আশাবাদী হতে বাধ্য। পরের দিনের টিকিট কাটলাম এবং দেখে এলাম এবারের ঈদের ‘শিকারি’ ছবিটি এবং হাউস যথারীতি ফুল!
অভিনয় : শাকিব খানই পুরো ছবিটা জুড়ে। তার চরিত্রের অনেকগুলো শেড। কখনো ভাড়াটে খুনি সুলতান, কখনো কাজের ছেলে হৃদয়হরণ, কখনো রুদ্রপ্রতাপের সন্তান রাঘব যেকোনো অবতারেই শাকিব সাবলীল।
কিছু কিছু জায়গায় জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছে। এই সিনেমায় নিশ্চয়ই এই নতুন শাকিব খান একটা বড় প্রাপ্তি। নতুন লুকে ও অভিনয়ে জানান দিয়েছেন কেন তার নামে হল মালিক বাজি ধরে।
শ্রাবন্তীর আসলে বিশেষ কিছু করার ছিল না। তাছাড়া নতুন শাকিবের কাছে তাকে একটু ম্যাচিওর লাগছিল। সহজাত স্নিগ্ধ মিষ্টি শ্রাবন্তীকে মিস করেছি। যদিও অভিনয় দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন।
তিনকড়ির চরিত্রে খরাজ মুখোপাধ্যায় যা করেছেন তাতে তার বিকল্প ভাবতে পারছি না। কমিক সেন্স অ্যান্ড টাইমিং, জাস্ট অসাধারণ। সিনেমার প্রথমার্ধ মাতিয়ে রাখতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সব্যসাচী, সুপ্রিয় দত্ত, অমিত হাসান ও সহশিল্পীদের অভিনয় ঠিকঠাক। চিত্রনাট্য অনুযায়ী উপভোগ্য। তবে বড় মা চরিত্রের অভিনেত্রী আলাদা ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করেছেন।
ভিলেন হিসেবে রাহুলকে একটু কমজোরি লেগেছে। স্ক্রিন প্রেজেন্সে তাকে আরেকটু দাপুটে হলে আরো ভালো লাগতো।
গল্প ও চিত্রনাট্য : টার্গেট মিস না হওয়া এক শিকারির গল্প সাথে হেলদি কমেডি। একদম নিখাদ এন্টারটেইনিং বাণিজ্যিক গল্প। ঈদের সিনেমা এমনই হওয়া উচিত। রিমেক গল্পটাকে বাঙালি সংস্কৃতির ছাচে ফেলে দারুণভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। রিমেক তো এমনই হওয়া উচিত।
বিরতির প্রথমভাগ দুর্দান্ত। কিন্তু বিরতির কিছু সময় পরই সুলতান স্বীকার করে যে, সে রুদ্রপ্রতাপ চৌধুরীর ছেলে। এরপরই গল্পটা প্রেডিক্টেবল হয়ে যায়। আর গল্পটা বুঝে ফেললে একটু বোরিং লাগতেই পারে! টুইস্টটাকে শেষ অব্দি রাখতে পারলে দর্শক আরো চমকে যেতো। শিকারির এই পরিচয় স্বীকার করাকেই মনে হয়েছে সিনেমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
‘শিকারি’ সিনেমার শেষটায় শাকিব খান দুষ্টের দমন করলেও নিজেই গুলির শিকার হয়ে হাসপাতালে যায়! তাহলে আর তিনি কিসের পাকা শিকারি? হ্যাঁ তিনি অবশ্যই পাক্কা শিকারি! যিনি দর্শককে এমনভাবে শিকার করতে পারেন তার কী দরকার ভিলেনকে এতো নির্মমভাবে শিকার করার?
মিউজিক ও কোরিওগ্রাফ : গানগুলো শ্রুতিমধুর। সবথেকে বড় কথা হার্ডকোর বাণিজ্যিক ছবিতে রবীন্দ্র সঙ্গীতের এমন ব্যবহার! সত্যিই নান্দনিক আর উৎসাহব্যঞ্জক। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরও ভালো।
কোরিওগ্রাফ দৃষ্টিসুখকর। ক্যামেরার মুভমেন্ট এই সিনেমাকে আলাদা গতি দিয়েছে। অ্যাকশন দৃশ্য উপভোগ্য। লোকেশন সিলেকশন দারুণ।
তবে টাকা ভর্তি ব্যাগ খালি মনে হওয়া, আইনগত দু-একটি জায়গা, আরও টুকটাক কিছু ভুল চাইলেই এড়ানো যেতো। কিন্তু এগুলো কিছুতেই একজন সাধারণ দর্শকের বিনোদনের অন্তরায় হবে না। এই উপমহাদেশের চলতি বাণিজ্যিক সিনেমায় নিরেট লজিক খোঁজ করা আতলামি।
এই সিনেমার টিম, বিশেষ করে আব্দুল আজিজ সাহেবকে ধন্যবাদ। বাংলা সিনেমা আপনার হাত ধরে আরও অনেক এগিয়ে যাবে এই শুভকামনা।