ঢাকাMonday , 27 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রিতে খরা

Link Copied!

Launchনিজস্ব প্রতিবেদক : প্রচার-প্রচারণা না থাকায় সরকারের লঞ্চের টিকিট বিক্রির উদ্যোগে ভাটা পড়েছে। টিকিট বিক্রির আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনে (সকাল ১০টা পর্যন্ত) মাত্র ১৬ ভাগ টিকিট বিক্রি হয়েছে। ৩৫টি কাউন্টারের মধ্যে ১৫টি কাউন্টারই খালি।
তবে সাধারণ টিকিট বিক্রিতে ভাটা পড়লেও লঞ্চের কেবিন পাওয়া এখনও সোনার হরিণ পাওয়ার মতোই। চলতি মাসের প্রথম থেকেই কেবিন বুকিং শুরু হয়েছে। কেবিনের অধিকাংশিই বুকিং হয়ে গেছে অনেক আগে। তবে বাড়তি খরচ করলে মিলছে কিছু কিছু কেবিন। ডেক যাত্রীদের বেলায় সরকার নির্ধারিত ভাড়া অতিক্রম না করলেও সোফা ও ভিআইটি কেবিনের বেলায় ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রীকে লঞ্চে উঠতে দেয়া হবে না- এমন ঘেষাণা দিয়ে গত রোববার (২৬জুন) থেকে লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ)। সদরঘাটের পশ্চিমপাশের নতুন ভবনে ৩৫টি নতুন লঞ্চের টিকিট কাউন্টার খোলা হয়েছে। লঞ্চ মালিকরা মাত্র ২০টি কাউন্টারে ২৬ জুন থেকে টিকিট বিক্রি শুরু করে। এর পরও আশানুরূপ টিকি বিক্রি হচ্ছে না কাউন্টারে।
সেংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, নতুন এই কাউন্টার সম্পর্কে প্রচার প্রচারণা না থাকায় আসন্ন ঈদে ঘুরমুখো মানুষের লঞ্চের টিকিট সংগ্রহের বিষয়টি জানে না। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ-পথের চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে টিকেটিং ব্যবস্থা কি অনেকেই বুঝতে পারেনি। এসব কারণে লঞ্চের টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়ায় ভাটা পড়েছে।
সুরভী গ্রুপ অব নেভিগেশনের পরিচালক রেজিন-উল কবির জানান, ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শুরুর ৪দিন ও ঈদ পরবর্তী ৪দিন মিলে ৮দিনে বর্ধিত ভাড়া নেয়া হবে।
যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, টিকিটের জন্য আগাম স্লিপ জমা দিয়েও ১৬ জুন থেকেই তাদের বাড়তি দামে টিকেট কিনতে হয়েছে। তবে সরকারি স্টিমারের বেলায় ভাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তারা।
সুন্দরবন নেভিগেশনের টিকিট ক্লার্ক দেবাশীষ দাস বলেন, ‘সাধারণত ডেকের ভাড়া ২০০, সোফার ভাড়া ৫০০, সিঙ্গেল কেবিন ৯০০, ডাবল কেবিন ১৮০০, ভিআইপি সিঙ্গেল ৫ হাজার ও ভিআইপি ডাবলের টিকিট ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ঈদ উপলক্ষে ডেকের ভাড়া ৫০ টাকা বাড়িয়ে আড়ইশ করে নেয়া হচ্ছে। কেবিনের বেলায় বেড়েছে ২০০ টাকা করে। আর ভিআইপি কেবিনের বেলায় বেড়েছে ২ হাজার টাকার মতো বেড়েছে।’
বিআইডব্লিউটিএ’র (বরিশাল) ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. রিয়াদ হোসেন জানান, বরিশাল ঢাকা নৌপথের দূরত্ব ১৬১ কিলোমিটার। ডেক যাত্রীদের জন্য সরকার নির্ধারিত ভাড়া ২৫৫ টাকা। কেবিনের ভাড়ার বেলায় ডেকের ভাড়ার ৪ গুণ নির্ধারণ করে দেয়া আছে। এ হিসেবে এক হাজার ২০ টাকা কেবিনপ্রতি ভাড়া আসে। সাধারণত ডেকের ভাড়া নিয়মিত ২০০ টাকা করে নিলেও প্রতিযোগিতা থাকলে কখনো বা তা ৫০ টাকায়ও নেমে আসে।
এবারে ২৯ জুন থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিস শুরু হচ্ছে। ফিরতি যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী স্পেশাল সার্ভিস চলবে ঈদ পরবর্তী সপ্তাহ বা টানা ১০ দিন ধরে। অপরদিকে গ্রিন লাইন ওয়াটারওয়েজের দিবা সার্ভিসের দুটি লঞ্চ চলমান থাকায় প্রতিদিন কেবিন বা সোফার ১৪শ’ যাত্রী ঘরে ফিরতে পারবেন। এতে করে কেবিনের ওপর চাপ কমে আসার কথা। তবে চাহিদা অনুযায়ী কেবিন না থাকায় লঞ্চগুলোতে কেবিনবিড়ম্বনার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
সৈয়দ দুলাল নামের এক লঞ্চযাত্রী বলেন, ‘কেবিনের টিকিটের সঙ্কট বলে সুযোগ পেয়ে লঞ্চ মালিকরাও ভাড়া বাড়িয়ে নেন। বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই কেবিনের টিকিট কিনতে হচ্ছে।’
বিআইডব্লিউটিএ’র সদর ঘাট বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘লঞ্চের কেবিন বুকিং শেষ। এ অভিযোগ ঠিক যে, বেশি টাকা দিলেই কেবিন মিলছে। মূলত লঞ্চ মালিকরাই ইচ্ছা মত ভাড়া নিচ্ছে কেবিনের।’
৩৫টি কাউন্টার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৬ জুন থেকে শুরু হয়েছে লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি। প্রথম দিনে মাত্র ২০টি কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ সোমবার পর্যন্ত ২৫টি কাউন্টারেই টিকিট বিক্রি হবে।’
এখনও লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না মন্তব্য করে জয়নাল আবেদিন জানান, ঈদের এখনো ৮ দিন বাকি রয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে হয়তো বেশি টিকিট বিক্রি হবে।
সোমবার সকালে সদরঘাটের নতুন এই ৩৫টি কাউন্টার সরজমিনে জানা গেছে, প্রত্যেক যাত্রীকে টিকিট কেটে লঞ্চে উঠতে হবে। এ সম্পর্কে জানেন না ৯০ ভাগ যাত্রী। সরকারের এই নতুন নিয়মের প্রচার প্রচারণা না থাকায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে না বলে জানান সদরঘাটের ব্যবসায়ী মো. আশরাফ আলী। তিনি জানান এই কার্যক্রম চালু করতে অনেক আগে থেকেই প্রচারণা চালানো উচিত ছিল।
লঞ্চ মালিক সাহাবউদ্দিন মিলন বলেন, ‘আগাম টিকিট কেটে যাত্রীদের লঞ্চে উঠতে হবে- সরকারের নেয়া এই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে।’
কেবিন বুকিং সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অগ্রিম টিকিট নিতে গিয়ে যাত্রীদের বিড়ম্বনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ কেবিনের সংখ্যা চাহিদার ৫ ভাগের ১ ভাগ। ঈদের সময় আমাদের পক্ষে এ ঘাটতি পূরণ সম্ভব হয় না।’