ঢাকাMonday , 27 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আশুলিয়ায় নারী পাচার চক্র সক্রিয়

Link Copied!

Human Traffickingসাভার প্রতিনিধি : শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় সরকারি খরচে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে নারী পাচার করছে একটি চক্র। সেই সঙ্গে সাধারণ নারীদের অবৈধভাবে বিদেশ পাচার করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই চক্রের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে একাধিক পরিবার।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার পূর্ব-বাড়ইপাড়া এলাকার লাকি বেগম ও তার স্বামী মো. বাহার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খরচে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণার মাধ্যমে অসহায় নারীদের সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছে।
পূর্ব-বাড়ইপাড়া এলাকার মো. আলি বলেন, ‘রংপুর থেকে জীবন-জীবিকার তাগিদে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় আনোয়ারের বাড়ি ভাড়া নিয়ে আমি ও আমার বউ আছমা একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেই। কম বেতন তাই অভাবের সংসার। এই সুযোগ নিয়ে লাকি বেগম আমাকে বলে সরকারি খরচে তোর বউকে বিদেশ পাঠিয়ে দেই অনেক টাকা বেতন পাবে। তাহলে তোদের সংসারে আর কোনো অভাব থাকবে না। তখন আমি রাজি হয়ে যাই। গত ২৬/০৫/১৬ ইং শুক্রবার লাকি বেগমের মাধ্যমে আছমা সৌদি যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আছমার পাসপোর্ট ও ভিসার যাবতীয় খরচ লাকি বেগম বহন করেন। কিছুদিন পর আছমা সৌদি থেকে ফোন দিয়ে জানায়, আমাকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। আমি এখানে খুব নির্যাতনের শিকার হয়ে আছি। আমাকে যেকোনো ভাবে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা কর। তখন আমি লাকি বেগমের সাথে যোগাযোগ করি এবং আমার বউকে ফেরত আনার কথা জানাই। সে আমাকে বলে তোর বউকে ফেরত পেতে হলে তিন লাখ টাকা ব্যবস্থা কর। তাহলে তোর বউকে ফেরত পাবি।’
অন্যদিকে এই খবর পেয়ে একই এলাকার সালমা বেগম এয়ারপোর্ট এলাকা থেকে পালিয়ে আসে। এসময় লাকি বেগম সালমাকে ভয় ভিতি দেখিয়ে বলে তোর পাসপোর্ট ভিসা করতে আমার এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই টাকা ফেরত না দিলে তোর নামে থানায় মামলা করবো। এ কথা বলতে বলতে তার কাছ থেকে পাসপোর্ট ভিসাসহ সকল কাগজপত্র কেড়ে নেয় লাকি। অসহায় সালমা বেগম উপায়ান্তর না পেয়ে লাকি বেগমের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। ডায়রি নং-১৬৯১,তাং-২৪/০৬/১৬ইং।
সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য পূর্ব-বাড়ইপাড়ায় লাকি বেগমের বাসায় গেলে তিনি বলেন,‘এ পযর্ন্ত আমি সৌদিতে শতাধিক নারী শ্রমিক পাঠিয়েছি। আমার স্বামী বাহার সৌদি প্রবাসী। মূলত তার মাধ্যমেই আমি নারি শ্রমিক পাঠাই। তাদের বিদেশ পাঠানো বাবদ আমি কোনো খরচ নেই না।’
এখন প্রশ্ন থেকে যায় তাহলে এসব নারীদের নিজ খরচে বিদেশ পাঠিয়ে লাকি বেগম ও তার স্বামী বাহারের লাভ কী?
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, লাকি বেগম গত তিন বছর যাবৎ বাড়ইপাড়া এলাকায় বসবাস করে ৩/৪টি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এতো টাকা তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন?
এই রিপোর্ট লেখার সময়, হোসনেয়ারা, সেলিনা, রাসিদা, রেকসোনাসহ আরো কয়েক জন নারীর স্বামী লাকি বেগমের বাসায় উপস্থিত হয় এবং তারা তাদের স্ত্রীদের ফেরত আনার জন্য দাবি জানায়।
রেকসোনার স্বামী মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, ‘লাকি বেগম সরকারিভাবে বিদেশ পাঠানোর নামে মিথ্যা বলে আমার স্ত্রীকে আসলে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই।’
এসময় ঘটনাস্থলে এলাকার শতশত উৎসুক জনতা ভির জমায়, তারা বলেন, ‘আমরা জানি তারা বৈধভাবে নারীদের বিদেশ পাঠায়। কিন্তু এভাবে সাধারণ অসহায় মানুষদের ঠকিয়ে পাচার করা হচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারিনি। সরকার ও প্রসাশনের কাছে আমাদের দাবি এ ধরনের পাচার চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ কঠিন শাস্তির ব্যাবস্থা করা হউক। যাতে করে দেশ ও জাতির ক্ষতি করে লাকি বেগমের মতো আর কেউ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ না হতে পারে।’
উল্লেখ্য, আশুলিয়া থানায় উপরোক্ত মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগসহ সাধারণ ডায়রি হলেও আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায় নি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মহাসিনুল কাদির জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।