স্পোর্টস ডেস্ক : আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনা সুপার স্টার লিওনেল মেসি ২৯ বছরে পা রাখলেন। জীবনের নতুন একটি বছরে পা রাখায় ভক্তরা তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছে, ‘শুভ জন্মদিন মেসি’।
১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্মগ্রহণ করেন মেসি। তার বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি ইস্পাতের কারখানায় কাজ করতেন এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি ছিলেন একজন খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তার পৈতৃক পরিবারের আদি নিবাস ছিল ইতালির আকোনা শহরে। তার পূর্বপুরুষদের একজন অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে আর্জেন্টিনায় চলে আসেন। মেসির বড় দুই ভাই এবং এক ছোট বোন রয়েছে।
পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন, যার কোচ ছিলেন তার বাবা হোর্হে। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে মেসি রোজারিও ভিত্তিক ক্লাব নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে যোগ দেন। তিনি একটি স্থানীয় যুব শক্তিঘরের সদস্য হয়ে পড়েন, যারা পরবর্তী চার বছরে একটি মাত্র খেলায় পরাজিত হয়েছিল এবং স্থানীয়ভাবে “দ্য মেশিন অফ ‘৮৭” (The machine of ’87) নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। তাদেরকে এই নামে অভিহিত করার কারণ ছিল তাদের জন্ম সাল: ১৯৮৭।
১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের (growth hormone) সমস্যা ধরা পড়ে। স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিল। এ চিকিৎসার জন্যে প্রতিমাসে প্রয়োজন ছিল ৯০০ মার্কিন ডলার।
বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন। হাতের কাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর করেন। বার্সেলোনা মেসির চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হয়। এরপর মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান।
মেসি বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন ৮টি লা লিগা, ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৩টি ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ, ৩টি উয়েফা সুপার কাপসহ অসংখ্য পুরষ্কার। হয়েছেন পাঁচবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন অলিম্পিকে সোনা। তাছাড়া আর্জেন্টিনার বয়স ভিত্তিক দল অনূর্ধ্ব-২০ এর হয়ে সেটির বিশ্বকাপও জিতেছেন মেসি। বার্সেলোনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, হয়েছেন এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা, আর্জেন্টিনার শীর্ষ গোলদাতাও হয়েছেন।
মেসি তার ক্যারিয়ারে মোট ৬৪৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ৫০৮টি গোল করেছেন। আর সহায়তা করেছেন ২১৩টি গোলে। ক্লাবের হয়ে মোট ট্রফি জিতেছেন ২৮টি।
মেসি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ও ২০১৫ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেললেও রানার্স আপ হয়েছেন। এবার শতবর্ষী কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেলতে আগামী সোমবার মাঠে নামবেন তিনি।

