ঢাকাWednesday , 15 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নাড়ির টানে বাড়ির পানে…

Link Copied!

NSTUনোয়াখালী প্রতিনিধি : সকালটা অন্যদিনের মতো শুরু হলেও অনেক কিছুই যেন মেলানো যাচ্ছে না। চারিদিকে বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা। প্রতিদিনকার রুটিন ওয়ার্ক হয়ে ওঠা আড্ডা আর গানের আসর, এদিকওদিক ছুটাছুটি, পড়ালেখা কেন্দ্রিক ব্যস্ততা সবই যেন ইতিহাস। চারিদিকে শূন্যতার চাপ পরিলক্ষিত। পার্ক, ক্যান্টিন, গোলচত্বর কোথাও নেই সেই চির চেনা হই-হুল্লোড় আর আড্ডার আসর। হাজারো কণ্ঠের প্রতিধ্বনি আর হাজারো পায়ের চলার শব্দগুলো আজ বড্ড ফিকে।
বলছিলাম, ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বর্তমান অবস্থার কথা।
ঈদ উপলক্ষে ক্যাম্পাস একমাসেরও বেশি সময় বন্ধ। দীর্ঘ এই বন্ধকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাস ছেড়েছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। হাতেগোনা যেকজন শিক্ষার্থী আছে তারাও দু-একদিনের মধ্যেই বাড়ির পানে ছুটবে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ এবং পড়ালেখা কেন্দ্রিক ব্যস্ততাকে ছুটি দিতে তাদের এই যাত্রা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক হলগুলো ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ রুমেই ঝুলছে তালা। বিশ্ববিদ্যালয় আশপাশ এর মেস-হোস্টেলগুলোতেও দেখা গেছে একই চিত্র।
রোজার প্রথম কয়েক দিন সেহরি এবং ইফতার কেন্দ্রিক যে ব্যস্ততা ছিল তাও প্রায় নিস্তব্ধ হয়ে এসেছে। নাড়িরটানে সবাই ছুটে চলছে নিজ নিজ গন্তব্যে। উদ্দেশ্য ঈদের আনন্দ প্রিয় মানুষদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া।
ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘রোজার সময় পরিবারের বাইরে থাকাটা সত্যিই কষ্টের। ভার্সিটিতে আবাসন সুবিধা না থাকায় মেসের জীবনেই মানিয়ে নিতে হয়। তবে রোজার সময় ভার্সিটির ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এখন পুরো রোজাটাই ঈদের আমেজে কাটবে। মায়ের কাছে পৌঁছে গেলে আগের কষ্টগুলো নিমিষেই দূর হয়ে যায়। এবারের ঈদ ভালোই কাটবে আশাকরি।’
‘ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দটাই অন্যরকম। পুরো জার্নিটাই উত্তেজনায় ভরপুর থাকে। অনেক দিন বন্ধ পেয়েছি তাই স্বজন দের সাথে সময় কাটানোর সুযোগটা মিস করতে চাইছি না’ এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা বলছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস।
দশম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম জানান, ‘সারাবছর ক্লাস পরীক্ষা এইসব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। খুব বেশি বন্ধ পাওয়া যায়না। তাই ঈদের ছুটির এই সময়টাতে ক্যাম্পাসের সব ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া কতটা আনন্দের ব্যাপার তা বলে বুঝানো যাবেনা।’
ঈদের এখনো ঢের দেরি তবুও বন্ধ পাওয়ার সাথে সাথেই বাড়ির পথ ধরছে সবাই। দীর্ঘ এই বন্ধে স্বজনদের কাছে যাওয়ার সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইছে না কেউ। কারণ একটাই, রমজান এর সময়াটাও যাতে প্রিয়জনদের সাথেই কাটানো যায়।
ঈদ শেষে আবারো ফিরবে শিক্ষার্থীরা, ভাঙবে নিরবতা। শূন্যতায় ডুব দেওয়া স্থানগুলো ফিরে পাবে পূর্ণতা। নির্জীব হয়ে ওঠা ক্যাম্পাসটা নতুন করে পাবে জীবন। আবারো জমে ওঠবে চিরচেনা সেই আড্ডার আসর সাথে পড়ালেখার দৌড়ঝাঁপ তো থাকছেই। হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হবে প্রাণের নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস।