ঢাকাWednesday , 15 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পিইসি বন্ধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

Link Copied!

PSC Studentনিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা বন্ধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা এবং বাস্তবতা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রণয়নের আগে পিইসি পরীক্ষা বন্ধ করা ঠিক হবে না।’ কারণ হিসেবে তিনে বলেন, ‘পিইসি চালুর আগে আমি যখন মোটর সাইকেলে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করে বেড়িয়েছি তখন সবাই বলেছে আমার স্কুল সেরা। আমাদের স্কুল সেরা।’
তিনি বলেন, ‘যখন মূল্যায়নের জন্য পিইসি পরীক্ষা নেয়া শুরু হলো, প্রথমবারেই ৮ হাজার প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি। এখন আর সে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি নেই। পিইসি পরীক্ষার কল্যাণে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটেছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ক্লাস বেইজড অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম চালু করা আগে পিইসি বন্ধ কোনোভাবেই ঠিক হবে না।’
এ বক্তবের বিরোধিতা করে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, ‘এ বছর থেকেই পিইসি তুলে দেয়া উচিৎ। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার জন্য ভিন্ন কোনো উপায় হতে পারে। এর জন্য ভাষাজ্ঞান এবং গণিতের ওপর তাদের পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে।’
বিশ্ব শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, ‘অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা থেকে শিশুদের মুক্তি দিতে হবে। ক্লাস, কোচিং, প্রাইভেটে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে অভিভাক-শিক্ষার্থী সবাই ক্লান্ত। এ অবস্থা থেকে তাদের রেহাই দিতে হবে।’
প্রাইভেটে, কোচিংয়ে ঝাপিয়ে পড়ার পিছনে বইয়ের জটিলতাকে দায়ী করলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বইয়ের সবকিছু সহজ ভাষায় হওয়া উচিৎ। শিক্ষার্থীরা যদি বই পড়ামাত্র বিষয়বস্তু বুঝতে পারে তাহলে শিক্ষার্থীর কোচিংয়ের যাওয়ার প্রশ্নই আসতো না। আমাদের পাঠ্যবই সহজ সাবলীল করতে হবে।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পিইসি পরীক্ষার কারণে সমস্যার তৈরি হচ্ছে। এ পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাকিটা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘এতোদিন পিইসি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন করা হতো। এ পরীক্ষার মাধ্যমে উপবৃত্তি দেয়া হতো। এখন যদি পিইসি বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে মূল্যায়ন কিভাবে হবে। এখন বলা হচ্ছে আপনারা পিইসি পরীক্ষা তুলে দেন, উপবৃত্তি দিয়ে যান।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিকে ১টা বই, একটা খাতা দেই আমরা। শিক্ষার্থীর বয়স ৫ বছর। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত ৬টি বই দেয়া হয়। হাতেগোনা কয়েকটা ছোট ছোট বই কোনোভাবেই শিশুদের জন্য বোঝা হতে পারে না। বোঝা বানায় কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো। তাদের সাজসজ্জাই ৫ কেজি। জুতা, মোজা, টাই আরো কতো কি!’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম সমস্যা আমরা এখানে যারা তারাও একত্রিত হতে পারিনি। ভিন্ন মত থাকতেই পারে। তবে কোনো কিছুকে বাস্তবায়ন করতে হলে ঐক্যমতের প্রয়োজন।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাপতির সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কিমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ছিদ্দুকুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সচিব মো. হুমায়ুন খালিদ, অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা প্রমুখ।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জার্নির সহযোগিতায় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, পিইসি পরীক্ষা বন্ধে বছরের শুরু থেকে মানববন্ধন করে আসছে আভিভাবকরা। ধীরে ধীরে পিইসি বন্ধ তাদের দাবিতে রূপান্তরিত হয়। এ দাবি বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময় মানববন্ধের পাশপাশি বিক্ষোভ মিছিলও করেছে অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের দাবি, পিইসি পরীক্ষার কারণে শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্কুলে স্কুলে কোচিং বাণিজ্য দৌরাত্ম্য বেড়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত পড়ার চাপ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ এসব কারণে অভিভাবকরা পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ১৮ মে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করায় তাদের এ দাবি আরো জোরালো হয়।