আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্লোরিডায় সমকামিদের একটি নাইটক্লাবে বন্দুকধারীর গুলিতে অর্ধশত মানুষের মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব। ২০১৫ সালে দেশটির অরেগন রাজ্যের একটি কলেজে এক বন্দুকধারীর গুলিতে নয় জনের মৃত্যুর পর অস্ত্রের সহজলভ্যতা নিয়ন্ত্রণে আইন করার প্রস্তাব করেন তিনি।
ভয়াবহ ওই ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র কেনার উপর নিয়ন্ত্রণ জরুরী বলে মন্তব্য করে বিদ্যমান আইন সংস্কারের কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। সেই সময় তার ওই প্রস্তাব ব্যপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ফলে প্রস্তাবটি আইনে পরিণত করার উদ্যোগ থিতিয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকরা ওই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছিলেন, আমেরিকার সব নাগরিকের আগ্নেয়াস্ত্র কেনা এবং ব্যবহারের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণশীল নাগরিকরা আগ্নেয়াস্ত্রের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবে প্রবল আপত্তি তোলেন।
তবে প্রেসিডেন্ট ওবামার এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থনও জানান দেশটির সচেতন নাগরিকদের অনেকে। তাদের যুক্তি, আমেরিকা সন্ত্রাস-বিরোধী অভিযানে কোটি কোটি ডলার খরচ করে। অথচ সন্ত্রাসী হামলায় যত না মার্কিন নাগরিক মারা যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি মারা যায় দেশের ভেতরে বন্দুকধারীদের গুলিতে। তবে ফ্লোরিডা নাইটক্লাবে হামলার পর দেশটির আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা শহরের অরল্যান্ডোতে সমকামীদেরে নাইটক্লাবে রোববার রাতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয় ৫০ জন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত দুইটার দিকে ‘পালস’ ক্লাব নামে পরিচিত নাইটক্লাবটিতে হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। প্রথমে হামলাকারীর পরিচয় না জানা গেলেও পরে পুলিশ সুত্রে জানা যায় ওই হামলাকারীর নাম ওমর মতিন (২৯)। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটাই এ ধরনের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা।

