ঢাকাSunday , 12 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেহেরপুরে সবজির বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি

Link Copied!

bazarমেহেরপুর প্রতিনিধি : রমজানের শুরুর দিনে সবজির দাম চড়া হলেও মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তা কমে এসেছে।
শনিবার মেহেরপুরের বিভিন্ন হাট-বাজারে অনেকটাই পানির দরে সবজি বিক্রি হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
রোজার বাজারে ভিআইপিখ্যাত বেগুন এখন স্বাভাবিক দরেই বিক্রি হচ্ছে। অগ্নিঝরা সেই দর কমে এখন স্বাভাবিকের চেয়েও নীচে অবস্থান করছে বেশিরভাগ সবজির দর।
শনিবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে গাংনী বাজারে অন্যান্য হাটের মতোই সবজি আমদানি হয়। তবে হাটের শুরুতে বিক্রি তেমন হয়নি। সন্ধ্যার দিকে কিছুটা বিক্রি বাড়লেও অনেকটাই পানির দরে সবজি বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। একই অবস্থা মেহেরপুর তহ বাজার (কাঁচা বাজার), বামন্দী, বারাদী, আমঝুপি ও মুজিবনগরের হাট-বাজারগুলোতে।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, বছরের এ সময়ে ব্যাপক সবজি পাওয়া যায়। সবজিখ্যাত মেহেরপুর জেলায় খুচরা বাজারে সকলের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকলেও প্রতি বছর রমজানে কিছুটা দর বৃদ্ধি পায়। রোজার শুরুর দুয়েক দিন দর চড়া থাকলেও গতকাল ছিল ব্যতিক্রম। তবে প্রথম দুদিন ব্যাপক বেচাবিক্রি হওয়ার ফলে গতকালের হাটে চাহিদা কম ছিল। একারণে ক্রেতারা খুব পরিমাণ সবজি ক্রয় করেছেন। আর তাই পচনশীল এসব কাঁচামাল ক্রয় মূল্যের চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
শনিবার পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ টাকা, রসুন ১০০-১১০ টাকা ও আলু ২২ টাকা দরে বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহের দরের অপরিবর্তিত রয়েছে। কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেক কমে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, রোজাদারদের চাহিদার বিশেষ স্থান দখলকরা বেগুনের দর কমেছে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা। রোজার প্রথম দিনে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা কমে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আরেক ভিআইপিখ্যাত শসার স্বভাবসুলভ দর কমে ৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা গত সপ্তাহে দর ছিল ২৫ টাকা কেজি।
এদিকে, অন্যান্য সবজির মধ্যে ঝিঙ্গে ১০ টাকা, ফুলকপি ১৫ টাকা, কাকরল ৩০ টাকা, করলা ১৫ টাকা, বরবটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৫ টাকা, পটল ১৫ টাকা, কুমড়া ১২ টাকা, ঢেড়স ১৫ টাকা, চিচিঙ্গা ১৫ টাকা, কলা ১৫-২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
এদিকে, মাছের বাজারে গত সপ্তাহে আগুন ঝরা দর গেলেও তা স্বাভাবিক দরে ফিরে এসেছে। মাছের রাজা ইলিশও মিলছে গাংনী বাজারে। প্রতি কেজি ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে (আকার ভেদে)। ইলিশের পাশাপাশি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সিং ও মাগুর মাছ। প্রতি কেজি সিং ৫০০ টাকা ও মাগুর ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এছাড়াও পাঙ্গাস ৮০-১০০ টাকা, সিলভার ৮০-১০০টাকা, রুই ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই পোনা ১১০-১৩০ টাকা, গ্রাস কার্প ১৫০-১৭০ টাকা এবং মনোসেক্স ১১০-১৫০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হয়। রমজানের প্রথম দিনে মাছ প্রতি কেজিতে ২০-৬০ টাকা বৃদ্ধি পায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতাদের ব্যাপক চাহিদার কারণে স্বাভাবিক নিয়মেই দর বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এখন চাহিদা কম থাকায় দর পড়েছে। তবে এলাকায় যে পরিমাণ মাছের জোগান রয়েছে তাতে রমজান মাসে দর স্বাভাবিক থাকার আশা করছেন মাছ ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে, গত কয়েকদিন তেমন বৃষ্টি না থাকায় সবজির দর কমেছে। বৃষ্টিতে সবজি বিনষ্ট হলে এর দর বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও রোজার দুয়েক দিন আগে থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বাইরের জেলায় সবজির চাহিদা বেশি থাকাটাও দর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
রমজান মাস আসলেই নিত্যপণ্যের দর বৃদ্ধি যেন অঘোষিত এক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতি বছরই নাকাল হচ্ছেন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষরা। রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দর স্বাভাবিক রাখতে তাই প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি প্রয়োজন। ইচ্ছেমতো কেউ যাতে দরবৃদ্ধি করতে না পারে সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে প্রশাসনের। তাহলে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করবে। এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সাধারণ ক্রেতারা।