নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বহিরাগত দালালদের উৎপাত বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই এখানে আসা রোগীদের কাছ থেকে তারা আদায় করছেন বাড়তি টাকা। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছের রোগীদের।
মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে প্রতিনিয়ত দাঁড়িয়ে থাকে ১৪/১৫ জন দালাল। তারা প্রকাশ্যে রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করছেন। অভিযোগ রয়েছে ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হোসেনের ক্ষমতাবলে তারা এ ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।
গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত সেলিম মিয়া যশোর থেকে ঢামেকে ভর্তি হয়েছেন। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হলেও মেডিকেলে ঢোকার সাথে সাথে দালালদের খপ্পরে পড়তে হয় তাকে। পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের গেটে প্রবেশের পর পরই একটি ট্রলি নিয়ে দালালরা ছুটে আসে।
এরপর তাকে সেই ট্রলিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় নিচ তলার একটি ওয়ার্ডে। সেখানে ডাক্তারদের পরামর্শ শেষে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে। তবে বিপত্তি সেখানেই। সেলিম মিয়ার স্বজনরা দালালদের খুশি হয়ে ১০০ টাকা দিতে চাইলে খেপে যান তারা। দাবি করেন আরও অর্থের। পরে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হন তারা।
প্রতিদিনই এমন ঘটছে বলে অভিযোগ এর আগে ভর্তি হওয়া অনেক রোগির। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘কয়দিন আগে আমার ভাইরে লইয়া মেডিকেলে আইলাম। গেডের মধ্যেই কয়েকজন আইয়া আমার ভাইরে ট্রলিতে তুইলা নিল। ভালো মতনই ওয়ার্ডে লইয়া গেল। পরে আমগো কাছে দাবি করল পাঁচশ টাকা। আমরা গরিব মানুষ, এতে টাকা পামু কই। হুইন্নাই আমগো লগে অনেক খারাপ ব্যবহার করল। হুনলাম হ্যারা বোলে সবসময় এমনই করে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢামেক হাসপাতালে ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হোসেন দালালদের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। তার অনুপস্থিতিতে ৬ জন সরদার এসব কাজের নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা হলেন— স্বপন, আইয়ুব আলি, মোহাম্মদ আলম, আব্দুল আজিজ, দেলোয়ার ও ফুল মিয়া।
মূলত তিন শিফটে ভাগ হয়ে এ ধরনের কাজ করে থাকেন দালালরা। প্রতি শিফটে ১৫ জন দালাল জরুরি বিভাগের গেটে অবস্থান করেন। তিন শিফটে মোট ৪৫ জন দালাল প্রতিদিন সেখানে কাজ করে। প্রতিদিন এরা প্রত্যেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা দেন সরদারদের। সেই চাঁদার টাকা ভাগ করে নেন আবুল মাস্টারসহ ৬ সরদার।
সরেজমিনে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অবস্থান করছেন ১৫ জন দালাল। মাঝে মধ্যে নিজেদের মধ্যে কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব হতেও দেখা গেছে। একজন রোগী আসলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন সবাই, কে কার আগে সেই রোগীর কাছে পৌঁছাবেন। তবে বিপত্তি বাধে তখন, যখন তাদের খুশি হয়ে রোগীর স্বজনরা টাকা দেন, তখনই বেঁকে বসেন তারা। দাবি করেন বাড়তি টাকা।
এ বিষয়ে ঢামেক চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বলেন, ‘আমাদের কড়া নির্দেশনা দেয়া আছে যাতে করে কোন রোগীর কাছ থেকে বাড়তি টাকা না নেয়া হয়। রোগীরা খুশি হয়ে যা দেবে তা-ই নিতে হবে। যারা তা মানেন না, আমরা অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর আগে যাদের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ উঠেছে তাদের আমরা বের করে দিয়েছি। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’
ঢামেকে দালালদের দৌরাত্মের বিষয়ে মেডিকেলের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. খাজা আব্দুল গফুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

