নিজস্ব প্রতিবেদক : দরবারের খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত, খ্রিষ্টান যাজক, লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট- একের পর এক টার্গেট কিলিং (বাছাই হত্যা) চলছে দেশে। প্রায়ই দেশের কোথাও না কোথাও এ ধরনের হত্যার ঘটনা ঘটছে। আজ শুক্রবার সকালেও পাবনায় এক সেবাশ্রমের সেবককে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় সব হত্যাকা-ের ধরন এক। ফলে প্রশাসন ধারণা করছে, কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলা এগুলো।
তবে ইরাক-সিরিয়াভিত্তক জঙ্গি সংগঠন আইএস এসব ঘটনার বেশির ভাগের দায় স্বীকার করলেও সরকার এই তা নাকচ করে দিয়ে বলছে, দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠীরাই এসব হত্যাকা- ঘটাচ্ছে।
গত ছয় দিনে এমন হামলায় প্রাণ গেছে চারজনের। রবিবার চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী ও নাটোরে খ্রিস্টান দোকানি; পরদিন সোমবার ঝিনাইদহে মন্দিরের পুরোহিত এবং আজ পাবনায় সেবাশ্রমের সেবায়েত টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হলেন। এর মধ্যে মন্দিরের পুরোহিত হত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে আইএস।
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বারবার বলে এলেও টার্গেট কিলিং বন্ধ করতে পারেনি পুলিশ। তবে গত কয়েক দিনে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বেশ কয়েকজন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বন্দুকযুদ্ধে জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনাকে অনেকে দেখছেন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পুলিশের পাল্টা আঘাত হিসেবে। এদিকে জঙ্গি ধরতে সাঁড়াশি অভিযানও শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গত কদিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জিএমবির সদস্য এবং বিভিন্ন সময় জঙ্গি হামলায় অংশ নিয়েছে।
গত বুধবার বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জেএমবি সদস্য কাউছার আলী (২৫) নিহত হন। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। ওই দিন রাতে রাজধানীতে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তারেক হোসেন মিলু ওরফে ওসমান ও সুলতান মাহমুদ নমের দুই যুবক। এর মধ্যে তারেক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানায়। এরা দুজনই জিএমবির সদস্য ছিলেন। তারা উত্তরাঞ্চলে সংগঠিত বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম। ওই দিন গাইবান্ধায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আরো একজন নিহত হয়। অজ্ঞাতপরিচয় এ ব্যক্তি জিএমবির সদস্য বলে পুলিশ জানায়।
এদিকে জঙ্গি ধরতে ‘ঢাকঢোল’ পিটিয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ভোররাতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে সারা দেশে। এই অভিযান চলবে সাত দিন ধরে। মূলত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ গত কদিনে উপর্যুপরি হত্যাকা-ের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এই সাঁড়াশি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জঙ্গি প্রতিরোধে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, পুলিশের অভিযান একটি রুটিন ওয়ার্ক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ এ অভিযান পরিচালিত করে, যাতে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের এ অধ্যাপক বলেন, অভিযান একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা। কিন্তু সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজন কোনো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়া।

