পাঞ্জেরী ডেস্ক : প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে সম্মত হয়েছে সৌদি আরব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রিয়াদ সফরের সময় সৌদি সরকারি তহবিল থেকে অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হলে সৌদি সরকার এতে সম্মত হয়।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান নজরুল ইসলাম বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ তার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ঢাকা সফর করে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
নজরুল বলেন, সৌদি সরকার তার পেট্রোডলারের তহবিল (তেল বিক্রির টাকা) যা ইউরোপ এবং আমেরিকায় গচ্ছিত আছে তার একটি অংশ এশিয়ার দেশগুলো যেমন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া তারা তেল নির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে উৎপাদনশীল ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী, যাতে করে তেলের দাম কমে গেলেও তাদের অর্থনীতি সমস্যায় না পড়ে।
উন্মুক্ত শ্রমবাজার
নজরুল ইসলাম বলেন, সৌদি সরকার তার শ্রমবাজার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু এটি বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ দক্ষ লোক সরবরাহ করতে পারবে ততক্ষণ সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে লোক নেবে।’
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, গত মাসে একটি সৌদি সরকারি প্রতিনিধিদল চিকিৎসক নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা এসেছিলেন। এরইমধ্যে চিকিৎসক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গেছে। পাঁচ থেকে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চিকিৎসকদের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাদে শুধু মাসিক বেতন দেওয়া হচ্ছে তিন লাখ টাকা বা তার বেশি।
উল্লেখ্য বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব অনেকাংশেই বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। যতদিন এই নির্ভরশীলতা থাকবে এবং বাংলাদেশ কম খরচে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারবে ততদিনই তা গ্রহণ করার ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন এবং কোটি কোটি ডলারের রেমিট্যান্স তারা বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন।
সামরিক কোয়ালিশন
সৌদি আরব সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলার জন্য ৩৪-জাতি জোট গঠন করেছে এবং বাংলাদেশ এর প্রাথমিক সদস্য। প্রথমদিকে বাংলাদেশ শুধু বেসামরিক সহায়তা দিতে রাজি থাকলেও এখন সামরিক সহযোগিতা দিতেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ (মক্কা ও মদিনায়) রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সামরিক সহযোগিতা দেবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, গত মার্চে বাংলাদেশের সেনা প্রধান সৌদি আরব সফর করে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠক শিগগিরই রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেবে।
জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ কোথাও সামরিক সহযোগিতা না পাঠালেও সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটবে।
তেহরানবিরোধী অবস্থান
সৌদি সরকারের তেহরানবিরোধী অবস্থানের বিষয়ে বাংলাদেশ ধৈর্য ধরে রিয়াদের বক্তব্য শুনেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের সময় তেহরানবিরোধী অবস্থানের বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষ আবতারণা করলে আমরা তাদের বক্তব্য ধৈর্য ধরে শুনেছি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয় এবং ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো।
তিনি বলেন, তেহরানে আমাদের দূতাবাস আছে এবং বাংলাদেশে ইরানের দূতাবাস আছে।
গত বছর হজে কয়েকশ ইরানি হাজি নিহত হওয়ার পরে এবং ইরানে সৌদি দূতাবাসে হামলার পর সৌদি আরব ইরানের সাথে তার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

