নিজস্ব প্রতিবেদক : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটের পাশাপাশি স্যানিটেশন ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা তুলে ধরে সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছে চাইল্ড পার্লামেন্টের ক্ষুদে সাংসদরা।
মঙ্গলবার রাজধানীর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়েজিত ‘দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পানি ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারি বাজেট বৃদ্ধি’ বিষয়ে চাইল্ড পার্লামেন্টের ১৩তম অধিবেশনে ক্ষুদে সাংসদরা তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের দাবি জানায়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
অধিবেশনের প্রথম তারকা চিহ্নিত প্রশ্নে বলা হয়, দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। যে কয়টি স্কুলে আছে সেগুলো ময়লা, দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার করা যায় না। আর বেশিরভাগ টয়লেটে দরজা নেই। দরজা থাকলেও ছিটকানি নেই। পানি তো থাকেই না। মাঝে মাঝে পানি পাওয়া গেলেও বদনা না থাকার কারণে টয়লেট ব্যবহার করা যায় না। টয়লেটগুলোতে আলোর কোনো ব্যবস্থা নেই। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় খুব সমস্যায় পড়তে হয়।
সম্পূরক প্রশ্নে পর্যাপ্ত টয়লেট নির্মাণের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত পরিচ্ছন্ন কর্মী রাখার দাবি জানানো হয়।
তারাকা চিহ্নিত দ্বিতীয় প্রশ্নে প্রত্যেকটি স্কুলে ছেলে-মেয়ের জন্য আলাদা টয়লেট থাকার কথা থাকলেও অনেক স্কুলে একটি টয়লেটে সবাইকে ব্যবহার করতে হয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা খুব সমস্যায় পড়ে।
সম্পূরক প্রশ্নে প্রতিটি স্কুলে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট থাকার যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে সেখানে পার্বত্য অঞ্চলের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ নেই কেন জানতে চাওয়া হয়। এবং পার্বত্য অঞ্চলের স্কুলগুলোতে পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা নানারকম সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
আরেক সম্পূরক প্রশ্নে পরিপত্রের বিষয়টি বাস্তবায়ন এবং ময়লা ফেলার জন্য ঢাকনাহ ঝুড়ির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।
তারকা চিহ্নিত পঞ্চম প্রশ্নে পাহাড়, হাওর এবং উপকূল অঞ্চলের তথ্য তুলে ধরা হয়। যেখানে দুর্যোগপূর্ণ আবহওয়ায় আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা সাংসদ।
সম্পূরক প্রশ্নে বলা হয়, বিদ্যুতের বিল্ বেশি হবে তাই মোটর চালু করা হয় না। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের আশ-পাশের দোকান থেকে পানি পান করতে হয়, যা অস্বাস্থ্যকর। এ পানি পান করে অনেকে নানা সময় অসুস্থ হয়েছে। এসময় এ সাংসদ বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সম্পূরক প্রশ্নে আরো বলা হয়, পানিতে শ্যাওলা থাকে, পোকা পড়ে থাকে। আর কোনো উপায় না থাকায় শ্যাওলাসহ পোকা-মাকড় পড়ে মরে থাকা পানি পান করতে হয় তাদের।
সম্পূরক প্রশ্নে আরেক সাংসদ আর্সেনিক পুনঃপরীক্ষার দাবি জানিয়ে বলে, আর্সেনিক পরীক্ষা করে আবারো লাল রঙ এবং সবুজ রঙ লাগিয়ে টিউবয়েলগুলোকে চিহ্নিত করা জরুরি।
তারকা চিহ্নিত ষষ্ঠ প্রশ্নে তুলে ধরা হয় স্কুল পরিদর্শক এবং ম্যনেজিং কমিটির দায়িত্ববোধ। সেখানে বলা হয়, অফিসার বা ম্যানেজিং কমিটির লোকজন যখন স্কুল পরিদর্শনে আসেন তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন না। তারা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং পয়নিষ্কাশন সম্পর্কে কোনো খোঁজখবরও রাখেন না।
এসময় সাংসদরা বলে, দিনের বেশিরভাগ সময় আমাদেরকে স্কুলে থাকতে হয়। স্কুলে বিশুদ্ধ পানি না থাকার কারণে সাধারণ পানি বাধ্য হয়ে পান করতে হয়। এতে বিভিন্ন সময অনেকে অসুস্থ হয়েছে। আমাদের টযলেটের অবস্থা খুবই খারাপ। ব্যবহারের অনুপোযোগী।
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে ১৩তম চাইল্ড পার্লামেন্টের আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগম মুক্তা। চাইল্ড পার্লামেন্টের অধিবেশনে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন হাসান মাহমুদ, ডেপুটি হিসেবে ছিলেন মিফতাহুন নাহার এবং শাহরিয়ার হৃদয়।
এতে প্রতি জেলো থেকে একজন এবং ২০টি বিশেষ অঞ্চল (চরাঞ্চল, পাহাড়ি, উপকূল ইত্যাদি) থেকে পার্লামেন্টের ৮৬ জন সদস্য যোগ দেয়।

