স্পোর্টস ডেস্ক : প্রথম ইনিংস দেখেই বোঝা গিয়েছিল হেডিংলির পর চেষ্টার লি স্ট্রিট টেস্টও হারতে চলেছে শ্রীলংকা। পার্থক্য বলতে হেডিংলিতে লংকানদের হারতে হয়েছিল ইনিংস ব্যবধানে। চেষ্টার লি স্ট্রিটে তাদের হারতে হলো ৯ উইকেটে। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলংকা ৪৭৫ রানে অলআউট হলে ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৭৯ রান। ২৩.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ওই রান টপকে গেছে ইংল্যান্ড। ফলে এক টেস্ট হাতে রেখেই তিন টেস্টের সিরিজ ২-০ তে জিতে নিলো অ্যালিস্টার কুকের দল। এখন তৃতীয় টেস্ট নিছকই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।
কুক এদিন বেশ কয়েকটি রেকর্ড বগলদাবা করে ফেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সী ( ৩১ বছর ১৫৭ দিন) ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন। যাতে তিনি টপকেছেন শচীন টেন্ডুলকারকে। ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের কোন ব্যাটসম্যানেরই এতদিন ১০ হাজার রান ছিল না। সেই খাতায় প্রথম যোগ হলেন কুক। সবমিলে তিনি ১০ হাজার রানের এলিট ক্লাবে ১২তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ঢুকে পড়লেন। প্রথম ১০ হাজার রানের গর্বিত মালিক সুনীল গাভাস্কার। যেটা তিনি করেছিলেন ৭ মার্চ ১৯৮৭ সালে।
প্রথম ইনিংসে ১৫ রানে ফিরে যাওয়ার আক্ষেপ কুক মিটিয়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসে। ৫ রান করেই তিনি পৌঁছে যান ১০ হাজার রানের মাইলফলকে। শেষ পর্যন্ত কুক ৬৫ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন নিক কম্পটন। একমাত্র উইকেটটি পেয়েছেন শ্রীবর্ধনে।
এরআগে ফলোঅনেপড়া শ্রীলংকা ৫ উইকেটে ৩০৯ রান চতুর্থ দিন শুরু করে। ইনিংস পরাজয় এড়াতে লংকানদের ভরসা হয়ে ছিলেন দিনেশ চন্ডিমাল ও শ্রীবর্ধনে। কিন্তু ৩৫ রানে অপরাজিত থাকা শ্রীবর্ধনে স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ না করেই ফিরে যান।
তবে শ্রীবর্ধনের মতো একই ভুল করেননি আগের দিন ৫৪ রানে অপরাজিত থাকা চন্ডিমাল। তিনি রঙ্গনা হেরাথকে সঙ্গে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ১১৬ রান যোগ করেন। যেখানে হেরাথের অবদান ৬১। ৯৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসে ছিল আটটি চার।
তবে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি ঠিকই তুলে নিয়েছেন চন্ডিমাল। স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১২৬ রান। ২০৭ বলে খেলা চন্ডিমালের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৩টি বাউন্ডারী আর একটি ছক্কায়। ১২৮.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারানো শ্রীলংকার ইনিংস থেমে যায় ৪৭৫ রানে।
হেডিংলি টেস্টে ১০ উইকেট তুলে নিয়ে লংকানদের একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন সময়ের সেরা ফাস্ট বোলার জেমস অ্যান্ডারসন। ওই ধারাবাহিকতাই তিনি টেনে এনেছে চেষ্টার লি স্ট্রিটে। লংকানদের দ্বিতীয় ইনিংসে অ্যান্ডারসন ৫৮ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে পেয়েছেন ৩ উইকেট। সবমিলে দ্বিতীয় টেস্টে অ্যান্ডারসনের ঝুলিতে পড়েছে ৮ উইকেট। তাই ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। অ্যান্ডারসনের দুই টেস্টে পকেটে পুরেছেন ১৮ উইকেট। অ্যান্ডারসনের দিনে ক্রিস ওকস ১০৩ রানে ২টি এবং ১টি করে উইকেট পেয়েছেন ব্রড, স্টিভেন ফিন ও মঈন আলী।

