কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজলীর। বয়স মাত্র ১২ বছর। আর এ বয়সেই সংসারের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল তাকে। কিন্তু বিধি বাম। সময়মতো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ যাত্রায় বেঁচে গেছে সে।
ফেসবুকে সিটিজেন জার্নালিজমের কর্মীদের মাধ্যমে মেয়েটির বাল্যবিয়ে হওয়ার খবর জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার দুপুরে মিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাজী তারিক সালমন এবং মিরপুর থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে কাজলীর (১২) বিয়ে বন্ধ করতে বাধ্য হন তার বাবা আবুল কালাম। পরে তিনি ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না মর্মে ম্যাজিস্ট্রেট গাজী সালমন তারিকের কাছে মুচলেকা দেন।
সোমবার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের বড়বাড়ীয়া গ্রামের আবুল কালাম তার এই মেয়ের বিয়ের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী আজ সোমবার কন্যাশিশু কাজলীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
এ ব্যাপারে মিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাজী সালমন তারিক সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সিটিজেন জার্নালিজমের প্রতিনিধিরা ফেসবুকে এই বাল্যবিয়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানায়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় গত শনিবারে মিরপুরের ইউএনওর হস্তক্ষেপে তার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়। আজ (৩০ মে) কাজলীদের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেই। এছাড়া স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে বাল্যবিয়ের কুফলের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়। মতবিনিময়কালে স্থানীয় এলাকাবাসীরা তাদের গ্রামে কখনো বাল্যবিয়ের মতো ঘটনা ঘটার সুযোগ দিবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।’

