স্পোর্টস ডেস্ক : আইপিএলের নবম আসরের ফাইনাল ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাট করেছে মুস্তাফিজুর রহমানের দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। শিরোপা জিততে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ২০৯ রানের লক্ষ্য বেধে দিয়েছেন ওয়ার্নাররা।
রোববার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৮ রান সংগ্রহ করেছে সানরাইজার্স। এটি তাদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আর এবারের আইপিএলে চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর।
এবার দলীয় সর্বোচ্চ স্কোর হয়েছে ২৪৮ রান। এরপর রয়েছে ২২৭ ও ২১১ রান। তিনটি স্কোরই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। আর আজকের ম্যাচের মাঠেই হয়েছে এই স্কোরগুলো। প্রথম ম্যাচে এই সানরাইজার্সের বিপক্ষে ২২৭ রান করেছিল কোহলিরা। সেবার তারা ৪৫ রানে জিতেছিল।
এদিন ক্রিজে নেমে শুরু থেকেই মারমুখী ব্যাট করেন ওয়ার্নার ও ধাওয়ান। তাতে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৯ রান জমা করেন তারা। কিন্তু পরের ওভারে ধাওয়ান বিদায় নিলে তাদের ৬৩ রানের জুটি ভেঙে যায়। চাহালের বলে জর্ডানের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ২৫ বলে ২৮ রান করেন তিনি।
ব্যাট চালিয়ে যেতে থাকেন ওয়ার্নার। তাতে মাত্র ২৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটি আইপিএলের দ্রুততম সেঞ্চুরি। ২০১০ সালে সুরেশ রায়নাও ২৪ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন। পরের বলে ওয়ার্নারের ক্যাচ মিস করেন উইকেটরক্ষক লুকেশ রাহুল। ওয়ার্নার বেঁচে গেলেও হেনরিকসের (৪) ক্যাচ ধরতে ভুল করেননি চাহাল। এবার বল করেন ক্রিজ জর্ডান।
যুবরাজকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় স্কোর শতরান পার করান সানরাইজার্স অধিনায়ক। কিন্তু দলীয় ১২৫ রানে সাজঘরে বিদায় নেন ওয়ার্নার। ১৪তম ওভারের অরবিন্দর বলে ইকবাল আব্দুল্লাহর তালুবন্দী হন এই ওপেনার। ফলে ৬৯ রানে থেমে যায় তার ইনিংস। ৩৮ বলে ৮টি চার ও তিনটি ছক্কায় এই স্কোর করেন তিনি।
ব্যাটিংয়ে ভরসার পাত্র হিসেবে মাঠে থাকেন যুবরাজ সিং। তার সঙ্গে ছিলেন দীপক হুদা। তারা দু’জন পর পর দুই বলে বিদায় নিলে হায়দরাবাদের ব্যাটিং অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। ১৬তম ওভারের শেষ বলে অরবিন্দর বলে কোহলির হাতে ক্যাচ আউট হন হুদা (৩)। পরের ওভারে জর্ডানের বলে ওয়াটসনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন যুবরাজ। ২৩ বলে ৪টি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৮ রান করেন তিনি।
কিন্তু শেষের দিকে ঝড় তুলেছেন বেন কাটিং। ১৫ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে ১১৭ মিটারের একটি ছক্কাও মেরেছেন তিনি। অপরাজিত থাকেন ৩৯ রান নিয়ে। তার সঙ্গে ১ বলে ১ রান নিয়ে খেলা শেষ করেন ভুবনেশ্বর কুমার।
শেন ওয়াটসন সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন। চার ওভারে ৬১ রান দিলেও কোনো উইকেট শিকার করতে পারেননি। চার ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট পেয়েছেন ক্রিস জর্ডান। সমান ওভারে ওরবিন্দ ৩০ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন।
এই ম্যাচে একাদশে ফিরেছেন বাংলাদেশের তারকা মুস্তাফিজুর রহমান। গত ম্যাচে সামান্য হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। কিন্তু চোট সেরে পুনরায় একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন কাটার মাস্টার।

