ঢাকাThursday , 19 May 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেহেরপুরে তিন সহোদর খুনে একজনের মৃত্যুদণ্ড

Link Copied!

fashiমেহেরপুর প্রতিনিধি : মেহেরপুরে তিন সহোদর হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতে পলাতক বাহিনীপ্রধান দুখুর মৃত্যুদণ্ড ও তার দুই সহযোগী আজিমুদ্দীন ও চেতন আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিজ্ঞ বিচারক টিএম মুছা এক জনাকীর্ণ আদালতে এ আদেশ দেন।
২০০৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে ইউপি নির্বাচনের বিরোধ কেন্দ্র করে গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলা গ্রামে এক কিলিং মিশনে ইউপি সদস্য ইমদাদুল হক, তার ভাই জাহিদুল ইসলাম এবং রুহুল আমিনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে আসামিরা।
৩২ জন আসামির মধ্যে তিনজন দণ্ডিত এবং বাকিরা বেকুর খালাস পেয়েছেন। এর মধ্যে দুখু ও তার সহযোগী আজিম উদ্দীন ভারতে পলাতক রয়েছেন। চেতন আলী রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত ইমদাদুল হকের স্ত্রী রেনুকা খাতুন বাদী হয়ে বাহিনী প্রধান দুখুকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ৩০ নভেম্বর দুখুসহ ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন গাংনী থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা। মামলায় ৪০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, গাংনী উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছিল দুখু। এলাকার মানুষকে অপহরণ করে ভারতে আটকে রেখে মোটা অংকের মুক্তিপণ নিয়ে মুক্তি দেয়া হতো। এছাড়াও সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের আরো ৪/৫টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুখু ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এলাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেও তার জীবনে নেমে আসতো নির্যাতনের খড়গ। কিন্তু অপরাধ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে দুখ। সর্বশেষ তিন সহোদরকে হত্যার দিন ভারত থেকে লোকজনসহ এদেশে প্রবেশ করে দুখু। গভীর রাতে তিন সহোদরকে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় মাথায় গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওইদিন নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সামনেই দুখু ও তার বাহিনীর সদস্যরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়। এরপর থেকেই দুখু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আছে। সেখানেই কয়েকটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলা অবস্থায় সে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো আত্মগোপন করে। তারপর থেকেই এলাকায় দুখু বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকলেও সীমান্তবর্তী মানুষের মাঝে দুখু বাহিনীর আতঙ্ক আজো কাটেনি।
এদিকে, রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রায়ে প্রধান আসামির ফাঁসির আদেশ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেহেরপুর জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) কেএম শহিদুল ইসলাম। তিনি বেকসুর খালাস হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।