আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বুধবার সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পদত্যাগের দাবিতে ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। বুধবার বিক্ষোভের তৃতীয় দিনে বিরোধীরা জাতীয় নির্বাচনী পরিষদ ভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। ফলে শুরু হয় সংঘর্ষ। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ও পানির বোতল ছুড়ে মারে। জবাবে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এ ঘটনার জের ধরে সরকার বিরোধী মিছিল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে বুধবার সকালেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল কারকাসের ১৪টি পাতালস্টেশন। যদিও সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে তারা স্টেশনগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার বিরোধী বিক্ষোভে জনগণ যাতে অংশ নিতে না পারে এজন্যই তারা এ ব্যবস্থা নিয়েছিল।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ধরে না রাখতে পারায় তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে মাদুরো সরকার। ফলে দেশটির জীবনযাত্রার মান বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের দাবি করেছে বিরোধী দল। কিন্তু বিরোধী দলের এ দাবিকে অগ্রাহ্য করে গত শুক্রবার দেশে ৬০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তার দাবি, দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে ওঠতে তার সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োজন। কিন্তু ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো সরকারের এই দাবিকে মেনে নিতে রাজি নয়। তাই গত কয়েকদিন ধরেই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে সরকার বিরোধী আন্দোলন।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানাচ্ছে, ভেনেজুয়েলায় এ মুহূর্তে কোনো স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব না। খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব যেমন প্রকট, তেমনি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতির মধ্যে লুটপাটের মতো ঘটনাও ছড়িয়ে পড়ছে।
তারপরও সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো অনাস্থা ভোট বা পুনঃনির্বাচন না করার ব্যপারে এখনো অনড় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ।

