খুলনা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজনে ৩৬তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপে (আন্তঃ জেলা ক্রিকেট) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুলনা জেলা। এ নিয়ে চতুর্থবার শিরোপা ঘরে তুললো রয়েল বেঙ্গলের শহরটি।
রোববার পাবনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার ফাইনালে ৬ উইকেটে ঢাকা জেলাকে পরাজিত করে শিরোপা জেতে খুলনা জেলা।
আগে ব্যাট করে এদিন ঢাকা জেলা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আসলাম-সৌমিকের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে খুলনা জেলা দল ৪১.২ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
পাবনা জেলা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা জেলা। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৩ রানেই ঢাকার ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন আলী হোসেন। দ্বিতীয় জুটিকে বেশী দূর এগোতে দেয়নি খুলনার বোলাররা। আজমীরকে ফিরিয়ে দেন স্পিনার রাজীবুল। তবে ঢাকা জেলার হয়ে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন আশিকুল ইসলাম। ঢাকার ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৮ রান রান করেন ব্যাটসম্যান আশিক। ১০৪ বলে ৪টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে এ রান করেন তিনি। খুলনার শামীমের বলে সাঁজঘরে ফিরতে হয় তাকে।
ঢাকার হয়ে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামে রায়হান। ৩৪ বলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে তার ব্যাটে যোগ হয় দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান। খুলনার হয়ে এদিন সবচেয়ে সফল পেসার মাসুম খান টুটুল। ২৬ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন তিনি। স্পিনার রাজীবুল আর আল ইমরান দু’জনেই নেন দু’টি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নেন কাজী শামীম ও সাজ্জাদ হোসেন মুন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৩ রানে ব্যক্তিগত ২ রান করে প্যাভিলিয়ানে ফিরে আসেন ওপেনিং ব্যাটসম্যান ইমরান হোসেন নয়ন। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেই ঘূরে দাড়ায় খুলনা। দলের হয়ে সাদমান কবীর সৌমিক ও আসলাম আলী জুটিবদ্ধ হয়। দু’জনের দ্বিতীয় ইনিংস জুটিতে যোগ হয় ১২৩ রান। এ জুটিই মুলত জয়ের ভিত গড়ে দেন। দলীয় ১২৩ রানে ভালো খেলতে থাকা সাদমান কবীর সৌমিক ফিরে যান। ৮৩ বলে ৫ বাউন্ডারী ও ৩টি ওভার বাউন্ডারীতে ব্যক্তিগত ৭৮ রান করেন তিনি। সৌমিক আউট হয়ে গেলেও অপর প্রান্তে আসলাম আলী দূর্দান্ত খেলেন। শেষ পর্যন্ত দলকে জয় থেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে আউট হয়ে যান আসলাম আলী। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাটে যোগ দলের সর্বোচ্চ ৮৮ রান। মাত্র ১২ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন তিনি। ১০৯ বলে ৯টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন তিনি।
ঢাকা জেলার হয়ে একটি করে উইকেট নেন তৌফিক, শহীদুল ও আজমির ও রায়হান। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন খুলনার আসলাম আলী। আর গোটা আসরে ৩৮০ রান ও ৯টি উইকেট পাওয়ায় টুর্ণামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন খুলনার অধিনায়ক মোসাদ্দেক ইফতেখার রাহি।

