স্পোর্টস ডেস্ক : পূর্ণ হলো না প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠার স্বপ্ন। উল্টো আত্মঘাতি গোল আর কয়েকটি গোলের সুবর্ণ সুযোগ নষ্টের বেদনায় পুড়তে হলো গোটা ম্যানচেস্টার সিটিকে। বুধবার গভীর রাতে ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে সিটিকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। গোলটি ছিল সিটির উপহার, আত্মঘাতি। ম্যানসিটির মাঠে সেমির প্রথম লেগে গোলশূন্য ড্র করেছিল রিয়াল। দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ গোলের অগ্রাগামিতায় ফাইনালের টিকিট পেল জিদান শিবির।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্বিতীয়বারের মতো আবারও হতে যাচ্ছে অল স্প্যানিশ ফাইনাল সঙ্গে মাদ্রিদ ডার্বিও। ২৮ মে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মিলানের সানসিরোতে মুখোমুখি হবে স্পেনের দুই ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ২০১৩-১৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এই দুটি ক্লাব মুখোমুখি হয়েছিল। যেখানে রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে জিতেছিল রিয়াল। এবার অ্যাটলেটিকোর সামনে প্রতিশোধের মিশন।
বার্নাব্যুতে আফসোস করতেই পারেন ম্যানসিটির ফার্নান্দিনহো ও সার্জিও অ্যাগুয়েরো। প্রথম আত্মঘাতি গোল করে খল নায়ক ফার্নান্দিনহো। পরে এই ফার্নান্দিনহোই মিস করেছেন গোল। শেষের দিকে অ্যাগুয়েরোর দূর থেকে নেয়া শট চলে যায় বারপোস্টের সামান্য উপর দিয়ে। অথচ এই ম্যাচটিতে ড্র করতে পারলেই, অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে প্রথমবারের মতো ফাইনালে যেতে পারত ম্যানসিটি। তবে রিয়ালও বেশকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে, না হলো স্কোর আরও সমৃদ্ধ হতে পারত।
ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে খেলতে শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ। ১৪ মিনিটেই প্রথম গোলের সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল। তবে কারভাজালের ক্রসে ঠিক সুবিধা করতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ২০ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পেয়ে যায় জিদান শিবির।
প্রথম দফায় মনে হয়েছিল দুর্দান্ত কোনাকুনি শটে গোলটি করেছেন গ্যারেথ বেল। তবে ভুল ভাঙে পড়ে। আসলে গোলটি হয় আত্মঘাতি। এতে অবশ্য বেলের কৃতিত্ব খাটো করা হচ্ছে না। দুরহ কোণ থেকে বেলের নেয়া শটে বল পোস্টে লেগে ভেতরে ঢোকে ম্যানসিটির ফার্নান্দিনহোকে হালকা স্পর্শ করে। আত্মঘাতি গোলে লিড নেয় রিয়াল মাদ্রিদ।
লিড নেয়ার পর আরও ক্ষিপ্র গতিতে আগাতে থাকে রিয়াল। ২৬ মিনিটে রিয়ালের আক্রমণ সেভ করেন ম্যানসিটি গোলরক্ষক জো হার্ট। ৩৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়েই গিয়েছিল ব্লাঙ্কস শিবির। ক্রসের নেয়া ফ্রি কিকে বল জালে পাঠিয়েছিলেন রিয়াল ডিফেন্ডার পেপে। তবে অফ সাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে আত্মঘাতি গোলের প্রায়শ্চিত প্রায় করেই ফেলেছিলেন ম্যানসিটির ফারনান্দিনহো। কিন্তু ভাগ্য খারাপ। তার নেয়া বুলেট গতির শটে বল একটু জন্যে পোস্টে লেগে দিক পরিবর্তন করে। আফসোস ওঠে সিটি শিবিরে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বজায় রেখে খেলতে শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ। ৫৪ মিনিটে ডিফেন্ডার ওটামেন্ডির ভুলে গোল হজম করতে যাচ্ছিল ম্যানসিটি। কিন্তু জো হার্টের সামনে ভালোমতো চিপ করতে পারেননি রিয়ালের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মডরিচ। মিনিটখানেক পর দারুণ সেভ করে জো হার্ট। কারভাজালের দেয়া দারুণ এক পাসে হেড নিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু তা তালুবন্দী করেন সিটি গোলরক্ষক।
শেষ অবধি রিয়ালের আক্রমণ থেমে থেমে চলেছে। এর মধ্যে একবার কর্নার কিকে হেড নিয়েছিলেন বেল। কিন্তু তা ফিরে আসে পোস্টে লেগে। শেষ মুহূর্তে ম্যানসিটির হয়ে আশা জাগিয়েছিলেন সার্জিও অ্যাগুয়েরো। দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তা চলে যায় বারপোস্টের সামান্য উপর দিয়ে।শেষ অবধি ফাইনালে উঠার আনন্দে রিয়াল শিবির উৎসবে শামিল হলেও পেলেগ্রিনি শিবিরে ছিল রাজ্যের বিষণ্নতা।

