স্পোর্টস ডেস্ক : বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলে নিয়মিত খেলতেন এনামুল হক বিজয়। এমনকি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৫ সালের বিশ্বকাপেও খেলতে গিয়েছিলেন তরুণ এই ডানহাতি ওপেনার। তবে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে কলার বোন ভেঙ্গে যায় বিজয়ের।
তারপর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের আর নিয়মিত খেলতে পারছেন না তিনি। তাই এবারের প্রিমিয়ার লিগটাকে একপ্রকারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন এনামুল হক বিজয়। দুই বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে সেঞ্চুরি করতে পেরে দারুণ খুশি তিনি। তাই এবার লিগে ভালো পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে ঢোকার স্বপ্নে বিভোর এনামুল হক বিজয়।
ওয়ালটন প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) সেঞ্চুরির দেখা পেলেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ডানহাতি ওপেনার এনামুল হক বিজয়। সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট কোচিং স্কুলের (সিসিএস) বিপক্ষে তিন অংকের ম্যাজিক্যাল ফিগারে পা রাখেন গাজী গ্রুপের এই ডানহাতি ওপেনার।
শেষ পর্যন্ত ১০০ রান করার পর সাইফুদ্দিনের বলে আউট হয়ে যান তিনি। সোমবার এনামুল ৮৫ বল মোকাবেলা করে ৪টি বাউন্ডারি ও ৭টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে সেঞ্চুরির করার কৃতিত্ব দেখান। এই ইনিংসের সুবাদে তার দল যেমন জিতেছে ঠিক তেমনি তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।
পরে খেলা শেষে এ প্রসঙ্গে এনামুল হক বিজয় বলেন, ‘২০১৪ সালের পর সেঞ্চুরি করলাম। ২০১৫’র পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলে আর সুযোগই পেলাম না। গেলবারের প্রিমিয়ার লিগে দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছি। প্রথম ম্যাচে ১০০ আর শেষ ম্যাচে রূপগঞ্জের সাথে ১৫০। সোমবার সেঞ্চুরি করে খুব ভালো লাগছে। যখনই দেখলাম স্কোরটা এমন তখনই মাথায়ই ছিল যতটুকু পারি লম্বা ব্যাটিং করার। আর সেটা বুঝেই সুযোগটা নিলাম। উইকেট ভাল ছিল তাই রানটা যখন হচ্ছিল তখন সেট হওয়ার পরে দেখলাম সেঞ্চুরি করা সম্ভব।’
জাতীয় দলে এখন আর সেভাবে নিয়মিত খেলা হচ্ছে না। তারপরও যখন সুযোগ পাবেন নিজের সেরাটা নিংড়ে দিতে কার্পন্য করবেন না বিজয়। ইচ্ছে আছে নিজেকে ছড়িয়ে যাওয়ার।
এ বিষয়ে এনামুল হক বিজয় বলেন, ‘নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করে সবসময়ই। সবসময়ই চাই যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারি। আগে যেখানে চারঘণ্টা অনুশীলন করতাম এবছর ৬ ঘণ্টা অনুশীলন করার চেষ্টা করছি। আরও পেশাদারিত্ব নিজের মধ্যে আনা যায় কীনা সেটা নিয়েও ভাবছি। এবার আরও ভাল প্রস্তিুতি নিয়ে জাতীয় দলে ঢোকার চেষ্টা করবো।’

