ঢাকাSunday , 1 May 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজপথে সোচ্চার শ্রমজীবী মানুষ

Link Copied!

Labour
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশেও পালিত হলো আন্তর্জাতিক মে দিবস (আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস)। দিবসটি উপলক্ষে নিজেদের অধিকার আদায় এবং বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজধানীতে র‌্যালি-সমাবেশ করেছে শ্রমজীবী নারী-পুরুষ।

রোববার সকাল থেকেই শ্রমজীবী মানুষ মিছিল নিয়ে রাজধানীর প্রেসক্লাব, পল্টন এলাকায় জড়ো হতে থাকে। এ সময় তারা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সকাল থেকেই একের পর এক শ্রমিক সংগঠন র‌্যালি‌ নিয়ে উপস্থিত হতে থাকে। প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তার দুই দিকেই মানববন্ধন, সমাবেশ করেন তারা। ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন নেতা-কর্মীরা। শ্রম-অধিকার নিয়ে প্রচলিত জনপ্রিয় গান বাজানো হয় মাইকে।

সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন হলেও বেশিরভাগ দাবি তাদের এক। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। এরমধ্যে অন্যতম ১৬ হাজার টাকা নিম্নতম মোট মজুরি, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন-বিধিমালা ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি রাজনীতি সচেতন, নীতিনিষ্ঠ ও সংগ্রামী শ্রমিক সংগঠন গড়া।

রানা প্লাজা ঘটনার তিন বছর পার করেছেন শ্রমিকরা কয়েকদিন আগেই। কিন্তু সে শোকের প্রভাব ছিল মে দিবসের কর্মসূচিতেও। এ বিষয়ে মে দিবসের দাবির পাশাপাশি কর্মস্থলে শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ সব কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন পোশাক খাতের শ্রমিকরা।

শ্রম আইনকে শ্রমিক বান্ধবরূপে দেখতে চান শ্রমিকরা। প্রত্যেকে নিয়োগপত্র চান। ইপিজেড, গার্মেন্টসহ প্রত্যেক কারখানায় শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার অধিকার, আট ঘণ্টা কর্মদিবসে বর্তমান অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে মজুরি নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক ওভারটাইম বন্ধ করা, সাপ্তাহিক ছুটি কার্যকর, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছয়মাস সবেতন ছুটি, সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে জাতীয় মজুরি কমিশন গঠনের দাবি তাদের।

এ ছাড়া শ্রমিক এলাকায় পূর্ণ রেশনি চালু ও মূল্যবৃদ্ধি রোধ, শ্রমিকসহ শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যগত বাসস্থান নির্মাণে জাতীয় গৃহায়ণ নীতিমালা তৈরি, বস্তি উচ্ছেদ বন্ধ করা, সব বস্তিতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা, হকারসহ ভাসমান শ্রমজীবী জনগণের সারা বছরের কাজের ব্যবস্থা করা, হকার উচ্ছেদ বন্ধ করা, গার্মেন্টসহ প্রত্যেক কারখানায় এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া ও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, শিল্প পুলিশ-শিল্প গোয়েন্দা বাতিল করা, সভা-সমাবেশে পুলিশি বাধা বন্ধ করা, সাম্রাজ্যবাদী ভারত-আমেরিকার সঙ্গে সম্পাদিত সব গোপন চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশ ও বাতিল করাসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে তাদের এসব কর্মসূচি।

শ্রমিকদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ), জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, সোয়ারীঘাট মৎস্য আড়ৎ শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ- বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়ন।

কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ট্রাস্ট গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরাম, তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সাধারণ শ্রমিক ইউনিয়ন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি ফোরাম, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশন, পোশাক গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নারী লেখক পরিষদ, অ্যাপেক্স বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, গ্রীনবাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, ঢাকা জেলা হালকা যানবাহন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোট, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনসহ কিছু সংগঠন।