আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ায় শনিবার সকাল থেকে একটি সাময়িক এবং আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দামেস্কে ২৪ ঘণ্টার জন্য এবং উপকূলীয় লাটাকিয়া প্রদেশে তিনদিন তারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। তবে আলেপ্পো শহরে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে না।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই আসাদ সরকার ও বিদ্রোহীরা এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতিকে ‘রেজিম অব কাম’ (শান্ত শাসন) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকারি বাহিনী।সিরিয়ার সেনাবাহিনী বলছে, সাধারণ বাসিন্দাদের যাতে বিদ্রোহীরা ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই তাদের এই সিদ্ধান্ত। শনিবার ভোর থেকে রাজধানী দামেস্কে ২৪ ঘণ্টা এবং লাটকিয়া প্রদেশে ৭২ ঘণ্টা বা তিনদিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়ছে না আলেপ্পো। যদিও সম্প্রতি এই শহরেই দুইশ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।
শহরটিতে ফের নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। দুপক্ষের সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। শহরটির এক অংশ এখন সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, অপর অংশের নিয়ন্ত্রণ করছে বিদ্রোহীরা। এই দুই পক্ষের মধ্যেই থেমে থেমে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এ সম্পর্কে সিরিয়ার আর্মি জেনারেল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আলেপ্পোতে এখনো অনেক সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। তারা শহর ও এর বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই সেখানকার পরিস্থিতি ভিন্ন।’
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার অব্যাহত কূটনীতিক চাপের কারণেই সিরিয়ার সরকার এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এই দেশ দুটি সিরিয়ার সরকার আর বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যকার শান্তিচুক্তির পুরোপুরি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী গোটা সিরিয়া জুড়েই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবার কথা। তার বদলে কেন সাময়িক ও আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হচ্ছে এর কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি সিরিয়া সরকার।

