ঢাকাSaturday , 30 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্ব ক্রেতাদের সাড়া পেলো ওয়ালটন

Link Copied!

Waltonঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ক্যান্টন ফেয়ারে বিশ্ব ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বাংলাদেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন। ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা ভূয়সী প্রসংশা করেছেন ওয়ালটন পণ্যের। তাদের অনেকেই কারখানা পরিদর্শন এবং পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা- কিছুদিনের মধ্যেই বিশাল অংকের পণ্য রপ্তানির সুযোগ আসতে পারে।
ওয়ালটন সূত্রমতে, সবচেয়ে বড় রপ্তানি আদেশ আসতে পারে অস্ট্রেলিয়া থেকে। সেখানকার ওমেগা প্রাইভেট লিমিটেড এর প্রতিনিধিদল ওয়ালটন কারখানা পরদির্শন করেছেন। শিগগিরই তারা আরো বড় টিম নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। তারা কারখানা পরিদর্শন করে অর্ডার দেবেন। আমেরিকার মিচা লুইচ কোম্পানির স্বত্ত্বাধিকারী মিস্টার মিচাও ওয়ালটন কারখানা ভিসিট করবেন। এছাড়া প্রতিবেশী দেশসমূহ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে শিগগিরই রপ্তানি আদেশ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে ওয়ালটন।
ক্যান্টন ফেয়ারকে বলা হয় দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য মেলা। চীনের গুয়াংজু শহরে বছরে দু’বার অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। যদিও এর অফিসিয়াল নাম ‘চায়না এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ফেয়ার’। প্রথমবারের মতো এতে অংশ নিয়েছিলো বাংলাদেশি কোনো ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। এখানে সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ওয়ালটন ব্র্যান্ডের পণ্যের প্রতি মনোযোগ আকৃষ্ট হয়েছে উন্নত বিশ্বের ক্রেতাদের। পাওয়া গেছে অভূতপূর্ব সাড়া। কয়েক হাজার পটেনশিয়াল বায়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন ওয়ালটন পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে।
জানা গেছে, এবারের মেলায় পৃথিবীর প্রায় ২০০টি দেশের ৩ লক্ষাধিক ক্রেতা অংশ নেন। এর বাইরে আরো প্রায় ৩ লাখ ছিলেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি। পৃথিবীর প্রায় সকল শীর্ষ ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শিত হয় এখানে। আসেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ ক্রেতা-ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে যেন বাণিজ্যের এক মহাযজ্ঞ।
মেলায় এরিয়া বি এর আন্তর্জাতিক হলে ছিল ওয়ালটনের মেগা প্যাভিলিয়ন। মোট ৮টি স্টলের সমপরিমাণ জায়গা নিয়ে দৃষ্টিনন্দন এবং অভিজাত ডিজাইনে তৈরি হয় ওয়ালটনের প্যাভিলিয়ন। আন্তর্জাতিক হলের বাইরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছিল ওয়ালটনের বিশাল বিলবোর্ড। ভিডিও স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয় ওয়ালটনের বিজ্ঞাপন ও তথ্যচিত্র। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক হলের মূল ফোকাস ছিল ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন।
১১৯তম আন্তর্জাতিক ক্যান্টন ফেয়ার চলে এপ্রিলের ১৫ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত। মেলায় প্রদর্শিত হয় ওয়ালটনের ফ্রস্ট ও নো ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, রিচার্জেবল ফ্যান, ইলেকট্রিক সুইস-সকেট, এলইডি বাল্ব, ইন্ডাকশন কুকার, ব্লেন্ডার, এসিড লেড রিচার্জেবল ব্যাটারি ইত্যাদি।
ওয়ালটন প্যাভিলিয়নের মূল আকর্ষণ ছিল ‘ইন্টিলিজেন্ট ইনভার্টার’ প্রযুক্তির নো ফ্রস্ট ফ্রিজ কর্নার। যেসব ফ্রিজে সংযোজিত হয়েছে প্রযুক্তির বিস্ময়। যা ন্যানো টেকনোলজি হিসেবে পরিচিত। সেইসঙ্গে গুণগত মান এবং সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে বিশ্ব ক্রেতাদের ঝোঁক এখন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন পণ্যের দিকে।
চায়না সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে মেলায় গিয়েছিলেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, মেলার হাজার হাজার স্টল-প্যাভিলিয়ন ঘুরে ওয়ালটন ফ্রিজের মতো মানসম্পন্ন এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের পণ্য আর কোথাও দেখা যায়নি। বিদেশিরা ওয়ালটন পণ্য দেখে মুগ্ধ। যে কারণে ইন্টারন্যাশনাল হলে ওয়ালটন প্যাভিলিয়নে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল। একজন বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশের একটি ব্র্যান্ডকে এখানে দেখে আমি গর্বিত।
ওয়ালটনের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং বিভাগের প্রধান রকিবুল ইসলাম রাকিব জানান- ক্যান্টন ফেয়ারে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া ও আফ্রিকার অসংখ্য ক্রেতা ওয়ালটন প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেছেন। তারা প্রায় প্রতিটি পণ্য ভালো করে দেখেছেন। গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন। সর্বোপরি তারা ওয়ালটন পণ্যের ভূয়সী প্রসংশা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ক্রেতারা সাধারণত কারখানা পরিদর্শন করে, পণ্যের স্পেসিফিকেশন এবং মূল্য ঠিক করে অর্ডার দেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ পাওয়া যাবে।’
ওয়ালটনের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, ‘ইলেকট্রনিক্স খাতের জায়ান্টরা নড়েচড়ে বসেছে ওয়ালটনকে এই মেলায় দেখে। ওয়ালটনের উত্থান তাদেরকে আশান্বিত করেছে। তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছে, এতো ভালো মানের পণ্য এতো কম খরচে ওয়ালটন কীভাবে তৈরি করছে। ক্যান্টন ফেয়ারের মাধ্যমে ওয়ালটনের এবং বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ অনেক বেড়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের বাজার সম্প্রসারণে এই মেলা কাজে দেবে।’