ঢাকাThursday , 28 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি প্রাধান্য দিতে চায় তুরস্ক

Link Copied!

ahmed-dabutogluআন্তর্জাতিক ডেস্ক : তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতুগলু বলেছেন, তরস্কের নতুন সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি ও বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্ট করা হবে। তার এই ঘোষণা একটু অদ্ভুত, কারণ দেশটির ৯৭ শতাংশ মানুষ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও সংবিধান অনুসারে তুরস্ক এমনিতেই ধর্মনিরপেক্ষ।
রাষ্ট্রপরিচালনার মূল নীতি হিসেবে এই ধর্ম নিরপেক্ষতাকে বহাল রাখতে চায় তুরস্ক। বুধবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী আহমদ দাভুতুগলু দেশের নতুন সংবিধানের বিষয়ে বলতে গিয়ে এ কথা বলেন।
কারণ তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধানের বাইরে রাখার পক্ষে মত দেন। এদিকে সংসদের স্পিকার ইসমাইল কাহরমানও বলেছেন, ‘তুরস্ক মুসলিম দেশ। সে অনুযায়ী এ দেশের একটি ইসলামিক সংবিধান থাকা উচিত।’
তার এই বক্তব্যের পরপরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুরস্কে সবসময় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এটা কারো বিতর্কের বিষয় নয়। সংবিধানের নতুন খসরায় ধর্মনিরপেক্ষতার মুলনীতিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করি এর মাধ্যমে  সকল ধর্মও বর্ণের মানুষের সমান সুযোগ তৈরি হবে এবং ইউরোপীয় মানের মানবাধিকার নিশ্চয়তা করতে নতুন সংবিধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শতকরা  ৯৭ ভাগ মুসলিমের দেশে নিশ্চই সংবিধানে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় বহাল রাখতে চাইবে তারা। আমাদের বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তার পরিচয় পাওয়া গেছে। যদিও সমালোচকেরা বলছে, এভাবে চলতে থাকলে ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকবে।
ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা এটাকে স্বাগত জানিয়েছে। নাগরিকের জাতীয় পরিচয়ের একট গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে এটি । কিন্তু দেশের ইসলামী শক্তিগুলোর সহযোগিতায় ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তা কতটা পারবে সেটা ভেবে দেখার বিষয়।
তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং ইউরোপের সদস্যপদের জন্যও চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এছাড়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে তুরস্ককে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯২০ সালে তুরস্কে উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ক্ষমতায় আসেন আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ক। তিনি তুরস্কের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করেন, ধর্ম এবং রাষ্ট্রকে আলাদা করেন, দাপ্তরিক ধর্ম হিসেবে ইসলামকে নিষিদ্ধ করেন এবং পশ্চিমা ধাঁচে তুরস্ককে ঢেলে সাজান। তুরস্ক একটি সুন্নি ‍মুসলিমপ্রধান দেশ। দেশটির প্রায় আট কোটি জনগণের মধ্যে এক লাখ খ্রিস্টান এবং ১৭ হাজার ইহুদি ধর্মাবলম্বী রয়েছে।