ঢাকাTuesday , 26 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিনব উপায়ে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদের আত্মহত্যা

Link Copied!

suisiedআন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের সম্প্রতি এক সম্ভানাময় প্রযুক্তিবিদ আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যা এমন কোনো নতুন ঘটনা নয়, বিশেষ করে ভারতের মত দেশে। সেখানে প্রতিদিনই একাধিক মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে লাকি গুপ্তার (৩৪) আত্মহত্যার ধরণটি ভিন্ন। তিনি গত বুধবার রাতে বিষাক্ত নাইট্রোজন গ্যাস ব্যবহার করে আত্মঘাতী হয়েছেন। হায়দ্রাবাদে বিষাক্ত গ্যাস সেবনে আত্মহত্যার এটিই প্রথম ঘটনা।
পেশাগত জীবনের ব্যর্থতা থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন প্রযুক্তিবিদ লাকি। নিজের সুইুসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর জন্য নানাইট্রোজেন হচ্ছে সবচাইতে উত্তম উপায়। তিনি তার পরিবারকে গ্যাস সিলিন্ডারটি দোকানে ফিরিয়ে দিয়ে এর নিরাপত্তা গ্যারান্টি বাবদ জমাকৃত পাঁচ হাজার রুপি ফেরত নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। তার ঘরের জানালা খুলে ঘরের বিষাক্ত বাতাস বের করে দেয়ার নির্দেশনাও রয়েছে তার ওই সুইসাইড নোটে।
হায়দ্রাবাদ পুলিশ বলছে, লাকি গুপ্তা মুম্বাইভিত্তিক একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি ওই চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘কিংডম আইটিস প্রাইভেট লি.’ চালু করেন। নতুন একটি সামাজিক মাধ্যম গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ওই কোম্পানি চালু করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল তার সৃষ্ট টুলসটি হোয়াটসআপের মত জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমকে টেক্কা দেবে।
কম্পিউটার সাইন্সে সদ্য ডিগ্রিধারী পাঁচ তরুণকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের নয়েডা শহরের ১২ নম্বর সেক্টরে নিজের কোম্পানি শুরু করেন লাকি। ২০১৪ সালে তিনি ওই কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন করান। কোম্পানির পরিচালক ছিলেন তার বাবা অশোক কুমার ও তিনি নিজে। গতবছর জানুয়ারি মাসে তার সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট কিংডম আলোর মুখ দেখে। এই সাইট ব্যবহারকারীরা নিজেদের মধ্যে টেক্সট, অডিও ও ভিডিও বার্তা পাঠাতে পারতেন। সেখানে কিছু গ্যালারি সংযোজন করা ছিল যেখানে ইউজাররা তাদের প্রিয় বিষয়গুলো সাজিয়ে রাখতে পারতেন এবং সেগুলো বন্ধুদের কাছে পাঠাতেও পারতেন।
গতবছর মার্চে লাকি গুপ্তা তার ওই অ্যাপসটি অন্ড্রয়িড ও আইওএস দুটি মাধ্যমেই ব্যবহার করা যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার তৈরি ওই সাইটটি ভালো চলছিল না। এ নিয়ে তিনি বেশ মুষড়ে পড়েছিলেন। পাশাপাশি বেশ আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন সম্ভাবনাময় এই প্রযুক্তিবিদ। এই নতুন অ্যাপসটির বিপণনের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, তা তার ছিল না। এ কথা জানান তার এক নিকটাত্মীয়। ফলে অনলাইন ইউজাররা কিংডম ব্যবহার করতে চাইতেন না। তারা হোয়াটস আপেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
এ নিয়ে গত ৩/৪ মাস ধরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন লাকি গুপ্তা। যদিও তার বাবা-মা তাকে আর্থিকভাবে বেশ সহযোগিতা করেছিলেন। তারা তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু পরপর দুটি আপস ব্যর্থ হওয়ার কষ্ট ভুলতে পারছিলেন না ওই যুবক। তাই নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে না পারার ব্যর্থতায় নিজেই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এ লক্ষ্যেই গত ১৭ এপ্রিল বালানগরের এক ফার্ম থেকে নাইট্রোজেন গ্যাসের ওই সিলিন্ডারটি সংগ্রহ করেছিলেন লাকি। কিন্তু এ বিষয়ে তার বাবা-মা কিছুই জানতেন না। এমনকি তার ঘরের ওই সিলিন্ডারটি সম্পর্কেও তারা ছিলেন অজ্ঞাত। তারা জানবেনই বা কি করে, ওই শহরে এ ধরনের আত্মহত্যা এটিই যে প্রথম! এখন তার মরদেহের ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় আছে পুলিশ।