ঢাকাTuesday , 26 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চেরনোবিল দুর্ঘটনার ৩০ বছর

Link Copied!

charnobilআন্তর্জাতিক ডেস্ক : চেরনোবিল দুর্ঘটনার ৩০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে ইউক্রেন। আজকের এই দিনেই বিশ্বের সবচাইতে ভয়াবহতম পরমাণু বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল।
৩০ বছর পূর্তিতে ইউক্রেনের স্লাভুটিচ শহরে একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে চেরনোবিল দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে প্রার্থণা করা হবে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল সংলগ্ন এক স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো। পরে তিনি স্থানীয় এক গির্জায় নিহতদের পরিবারের জন্য আয়োজিত এক প্রার্থণাসভায় অংশ নেবেন তিনি।
ভয়াবহ ওই দিনটিকে স্মরণ করতে ইতিমধ্যে চেরনোবিল অঞ্চলের সাবেক বাসিন্দাদের অনেকে সোমবার রাতেই সেখানে ছুটে গেছেন। এদেরই একজন হলেন ৬৬ বছরের প্রিপিয়াত। তিনি চেরনোবিলের শ্রমিকদের সঙ্গে ওই একই এলাকায় বসবাস করতেন। দুর্ঘটনার পর আরো অনেকের সঙ্গে তিনি চেরনোবিল ছেড়ে আসেন। ওই নারী সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আজ অনেকদিন পুরনো অ্যাপার্টমেন্টটা দেখলাম। ওটা এখন জঙ্গল হয়ে গেছে। উঠোন ভরে গেছে গাছগাছালিতে। সেগুলো এখন ছাদের মাথা ছাড়িয়েছে। সবকটা ঘর খালি পড়ে আছে। জানালার কাচগুলো ভেঙে পড়েছে। গোটা বাড়িটাই এখন ধ্বংসস্তূপ।’
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল চেরনোবিল পাওয়ার প্ল্যান্টের ৪ নম্বর রিঅ্যাক্টরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের আওতাধীন ইউক্রেন ও বেলারুশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। ওইদিন গভীর রাতে নিরাপদ শীতলীকরণের উপর একটি সাধারণ পরীক্ষা চালানোর সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, কর্তব্যরত কর্মীদের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই দুর্ঘটনা নিয়ে অনেক রহস্য আজও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়ে গেছে। দুর্ঘটনার ৩০ বছর পরও চেরনোবিল এলাকা মানুষ শূণ্য। বিস্ফোরণের আগে ওই অঞ্চলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু বিস্ফোরণের পর অনেক মানুষ তেজস্ক্রিয়তার শিকার হলে সকল অধিবাসীকে ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় মাত্র ৩০ জন মারা গিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এর প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ। ২০০৫ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চেরনোবিলের পরমাণু বিস্ফোরণ সংক্রান্ত অসুস্থতায় ৪ হাজারের বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। তবে পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা গ্রিনপিস বলছে, জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য মৃতের সংখ্যা অনেক কম করে দেখানো হয়েছে।
এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চেরনোবিলের কারণে সৃষ্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষ মারা যায়। এখনও অনেক মানুষ আছেন যারা ফুসফুস এবং থাইরয়েড ক্যান্সার নিয়ে ওই দুর্ঘটনাকে সাক্ষী মেনে বেঁচে আছেন। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় এখনও বহু শিশু বিকলাঙ্গতা অথবা স্নায়ুতন্ত্রের গোলযোগ নিয়ে জন্মাচ্ছে।