ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ১৫ দফা দাবিতে নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সারাদেশের মতো আশুগঞ্জেও নৌ-ধর্মঘট পালন করছে নৌযান শ্রমিকরা। এতে অচল হয়ে পড়েছে আশুগঞ্জ বন্দরের সকল কার্যক্রম।
কেন্দ্রীয় নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে বুধবার মধ্যরাত থেকে সারাদেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নৌ-ধর্মঘট শুরু করে নৌ-যান শ্রমিকরা। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে আটকা পড়েছে পণ্যবাহী শত শত কার্গোজাহাজ। পণ্যের লোড আনলোডিং বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করছেন শ্রমিকরা। কার্গোজাহাজ ছাড়াও লঞ্চ, বাল্কহেড, তেলবাহী ট্যাংকার, বালুবাহী নৌকা, লাইটার জাহাজসহ সকল প্রকার নৌযান শ্রমিকরা একাত্মতা প্রকাশ করে ধর্মঘট পালন করছে।
নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন সূত্র জানায়, সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ, নৌপথে ডাকাতি-চাদাঁবাজি বন্ধ ও নৌযান শ্রমিকের নিরাপত্তা, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নৌযান শ্রমিককে নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের পরিকল্পনা বতিলসহ ১৫ দফা দাবিতে অনিদিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় কেন্দ্রীয় নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন।
এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে একযোগে শুরু হয় নৌ-ধর্মঘট। এতে করে জেলার আশগঞ্জে আটকা পড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে আসা প্রায় দু’শতাধিক কার্গো জাহাজ। বন্ধ হয়ে গেছে আশুগঞ্জের সঙ্গে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ৬টি নৌ-রুটের ৫ জেলা সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪ উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লঞ্চ যাত্রীদের। বেকার হয়ে পড়েছে বন্দরের প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক।
এছাড়া কার্গো জাহাজ থেকে মালামাল খালাস বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে আমদানি করা ১১ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার নিয়ে ১৮টি জাহাজ আশুগঞ্জ সার কারখানা ঘাটে আটকা পড়েছে।
আটকে পড়া জাহাজের শ্রমিকরা জানান, যে পরিমাণ টাকা তাদের বেতন দেয়া হয় এতে করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে খুব কষ্ট করতে হয়। এছাড়াও ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করাতে তাদের হিমসিম খেতে হয়। তাই তারা নৌ-যান মালিকেদের প্রতি বেতন বৃদ্ধিসহ সকল দাবি বিবেচনা করার অনুরোধ করেন।
পূবাঞ্চলীয় কার্গো মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান হামদু বলেন, ‘কিছুদিন আগে নৌযান শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে বেতন ভাতা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এখন আবারো বেতন বাড়ানোর দাবি অযৌক্তিক।
নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. হাবিবুল্লাহ বাহার বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক এই ১৫ দফা দাবি মানা না হলে আমাদের ধর্মঘট চলবে।’

