বিনোদন ডেস্ক : ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের বিরুদ্ধে তেতে আছেন অসংখ্য ভারতীয় নির্মাতা ও প্রযোজকেরা। সেন্সর প্রথা বাতিলের পক্ষে প্রায়শই সেখানকার সিনে বোদ্ধাদেরও উচ্চবাক্য করতে দেখা গেছে। আর এবার হলিউডি শিশুতোষ সিনেমা ‘দ্য জঙ্গল বুক’কে অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেট দেয়ায় ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বলিউডের প্রখ্যাত প্রযোজক মুকেশ ভাটসহ সিনেবোদ্ধারা!
সম্প্রতি ভারতের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে হলিউডের শিশুতোষ সিনেমা ‘দ্য জঙ্গল বুক’। ছবিতে কেন্দ্রীয় ‘মুগলি’ চরিত্রে অভিনয় করছেন ভারতীয় বংশদ্ভুত অভিনেতা নীল নিতেশ। আর তাই তার সম্মানার্থে হলিউডের এক সপ্তাহ আগেই বলিউডের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। মুক্তির আগে ভারতীয় সিনেমার মতই অন্যান্য ছবিকেও সেন্সর বোর্ডের মাধ্যেমে স্বীকৃতি আদায় করতে হয়। নীলের ‘দ্য জঙ্গল বুক’ও গেল সেন্সরের কাঁচির নিচে। তবে কোনো দৃশ্য কর্তন না করলেও শিশুতোষ সিনেমাটির ভাগ্যে মিলেছে ইউ/এ সার্টিফিকেট। এর মানে হল সে সমস্ত শিশুরাই এই ছবিটি দেখতে পারবে, যাদেরকে তার বাবা মা অনুমতি দেন। কিংবা যারা প্রাপ্তবয়স্ক।
এমন শিশুতোষ চলচ্চিত্রকে ‘প্রাপ্তবয়স্ক’-এর ট্যাগ দিয়ে দেয়ায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটির সেন্সর বোর্ড। একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্রকেও কি করে ‘অ্যাডাল্ট’ সার্টিফিকেট দেয়া হয় তা নিয়ে সেন্সর বোর্ডের কাণ্ডজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।
বিশেষ করে সেন্সর বোর্ডের এমন কাণ্ডে তুুমুল ক্ষেপেছেন প্রখ্যাত প্রযোজক মুকেশ ভাট। তিনি মনে করেন, এটা ভারতের জন্য লজ্জার। সেন্সর বোর্ডের সমালোচনা করে মুকেশ আরো বলেন, দিন দিন আমরা কেমন পাগলাটে একটা জাতি হয়ে যাচ্ছি। জঙ্গল বুকের মত একটা সিনেমাকেও যদি অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেট দেয়া হয় তাহলে সেন্সর বোর্ড নিয়ে সরকারের ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি। দিন দিন সেন্সর বোর্ড একটি আবর্জনা রাখার জায়গা চলে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মুকেশ।
অন্যদিকে পোস্টার, টিজার আর ট্রেলারে পুরো বিশ্বে আলোচিত মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকা সিনেমা ‘দ্য জঙ্গল বুক’। ছবিটি মুক্তি না পেলেও এরইমধ্যে কেন্দ্রীয় ‘মুগলি’ চরিত্রে অভিনয় করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভারতীয় শিশু অভিনেতা নীল নিতেশ। ট্রেলারে জঙ্গলের ভিতরকার দৃশ্য আর হিংস্র প্রাণীদের সাথে মুগলির(নীল নিতেশ) অসাধারণ মেলবন্ধন লক্ষ করা গেছে। মুগলিকে কখনো দেখা গেছে বাঘের সাথে, কখনো বা বনের রাজা সিংহের সাথে দৌড়াচ্ছেন, আবার কখনো বানরের পিঠে চড়ে গাছে উঠছেন, কখনো মস্ত অজগরের সামনে সরল দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় মুগলিকে। আবার কখনো তাকে দেখা যায় ভাল্লুকের পেটে বসে জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে চলা সরু এক নদী পাড়ি দিচ্ছেন।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন জন ফেব্রুয়া। অজগর কায়ের চরিত্রে গলা দিয়েছেন স্কারলেট জনসন। এছাড়াও আছেন, বেন কিংস্লে (বাঘিরা), ইদ্রিশ এলবা (শের খান), বিল মুরে (ভালু)। আগামীকাল ভারতে মুক্তি পেলেও আসছে ১৫ এপ্রিল মুক্তি পাবে হলিউডের পর্দায়!

