নিজস্ব প্রতিবেদক : নাজিমউদ্দিন সামাদ হত্যার বিচারের দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রধর্মঘটন পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। সেইসঙ্গে শিগগিরই খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আগামী ১৩ এপ্রিল উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (১০ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে তালা মেরে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ধর্মঘটের একাত্মতা জানিয়ে ক্লাশ, পরীক্ষাও বর্জন করেছে অনেক বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ (রোববার) সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। এরকম আরো অনেক বিভাগে ক্লাশ-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
অবশ্য কিছুক্ষণ পরই সকাল পৌনে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত থেকে আন্দোলনরতদের দেয়া তালা ভেঙে ফেলা হয়।
এরপর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে ছাত্র সমাবেশ করেন। সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি মেহরাব আজাদ বলেন, ‘আমরা অতীতেও দেখেছি, এখনও দেখছি। জনসম্মুখে মুক্তমনা ব্লগারদের খুন করা হচ্ছে এর কোনো বিচার হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য ফেসবুকে লিখলে শাস্তি হয়। আর মানুষ মেরে ফেললেও কারো শাস্তি হয় না। এসব বন্ধ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই অনিরাপদভাবে বাইরে থাকছেন। অতিসত্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল চালু করা দরকার।’ এসময় সারাদেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ, খুনেরও বিচার দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সমন্বয়কারী অর্থনীতি বিভাগের সপ্তম ব্যচের শিক্ষার্থী রুহুল আমিন, ছাত্রফন্টের সাধারণ সম্পাদক কিশোর সরকার, ছাত্রফ্রন্টের একাংশের সভাপতি এমএম মুজাহিদ অনিক, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তিথি প্রমুখ। এ সমাবেশের পরপরই ক্যাফেটেরিয়ার সামনে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকা দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দিবাগত রাত ৯টায় রাজধানীর সূত্রাপুর থানাধীন একরামপুর মোড়ে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পিস্তলের গুলিতে নির্মমভাবে খুন হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমউদ্দিন। শুক্রবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে নিহতের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার থানাধীন টুকাবড়উড নামক গ্রামের পারিবারিক করবস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

