ঢাকাThursday , 7 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বীমা কোম্পানিগুলো ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ব্যয় করছে

Link Copied!

logo-Idraঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : দেশের বীমা কোম্পানিগুলো ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত ব্যয় করছে। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্স অযাচিতভাবে পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। এসব ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। কিন্তু দক্ষ জনবলের অভাবে এ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। গত সাত বছরে বীমা কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত ২ হাজার কোটি টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে খরচ করেছে। ফলে সময় মতো বীমা দাবি পূরণ করতে পারছে না কোম্পানিগুলো।
বুধবার ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টারস ফোরামের (আইআরএফ) সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দেশে যথেষ্ট বীমা পলিসি হয়। কিন্তু এর মধ্যে লেপ্সের পরিমাণ সব চেয়ে বেশি। বিমা কোম্পানিরগুলোর অযাচিত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করার কারণে এমনটি হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে কোম্পানিগুলো পলিসি হোল্ডারদের বীমা দাবি সময় মতো পূরণ করতে পারে না। লোকবলের অভাবে আইডিআরএ এগুলো তদারকি করতে পারছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ বিমা ও জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান মিলে দেশে ৭৭টির মত বিমা প্রতিষ্ঠান আছে। এতগুলো প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন আইডিআরএর তা নেই। বর্তমানে মাত্র ২৫ শতাংশ লোকবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ জনবলের কাজ অল্প লোক দিয়ে করতে হচ্ছে। ফলে বিমাখাতের কার্যকর নিয়্ন্ত্রণ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।’
শেফাক আহমেদ বলেন, ‘দেশে প্রধন তিনটি আর্থিকখাত হলো- ব্যাংকিংখাত, পুঁজিবাজার ও বীমাখাত। ব্যাংকিংখাত ও পুঁজিবাজার যেভাবে এগিয়েছে, দুঃখজনক হলেও সত্য বীমাখাত সেভাবে এগুতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের যথেষ্ট লোকবল ও অবকাঠামোর অভাব। এছাড়া আরকেটি বড় সমস্যা হলো বেসরকারি খাতের বীমা কোম্পানিগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ ব্যবস্থাপক সঙ্কট। প্রতিষ্ঠনগুলো পরিচালনার জন্য যে ধরনের দক্ষ লোক দরকার তা নেই। এতে করে পরিচালন অদক্ষতার কারণে বিমাখাতে নানা অনিয়ম হচ্ছে। ফলে এ খাতের ওপর জনগণের আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না।’
নানা কারণে শুরু থেকেই বীমাখাতটি অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য আইডিআরএ নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এ বছর প্রথমবাবের মত বীমা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ বছরের শেষের দিকে বিভাগভিত্তিক বীমা মেলার আয়োজন করা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
সভায় আইআরএফ আহ্বায়ক গোলাম সামদানির নেতৃত্বে সাংবাদিকরা বীমাখাতের উন্নয়নে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। সাংবাদিকরা বলেন, বীমার উন্নয়নে এবং এ খাত নিয়ে মানুষের মাঝে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করতে হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আইডিআরএর যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবারাহ করতে হবে।
আইডিআর কার্যলয়ে প্রবেশে সাংবাদিকদের নানা ধরনের বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হয় উল্লেখ করে গোলাম সামদানি বলেন, ‘সরকারে অন্যান্য রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংবাদিকরা যেভাবে প্রবেশ করতে পারে, আইডিআরএ সেভাবে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আইডিআরএর সঙ্গে গণমাধ্যমের একটি অঘোষিত দূরত্ব রয়ে গেছে। আশা করি, আজকের এ আয়োজনের মাধ্যমে সেটি আর থাকবে।’
অনুষ্ঠানে আইআরএফ সদস্যরা ছাড়াও আইডিআরএর সদস্য সুলতান উল আবেদীন মোল্লা, মো. কুদ্দুস খান, মুরশিদ আলম উপস্থিত ছিলেন।