ঢাকাMonday , 4 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নান্দনিকতা হারিয়েছে জাবির ভাস্কর্যগুলো

Link Copied!

Muktijuddhoসাভার প্রতিনিধি : লাল মৃত্তিকা, অতিথি পাখি, ইতিহাস ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির রাজধানী খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে এ ক্যাম্পাসে গড়ে উঠেছে কয়েকটি ভাস্কর্য। কিন্তু প্রশাসনের অযত্ন, অবহেলা আর শিক্ষার্থীদের অসচেনতার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে স্মৃতিময় এ স্থাপনাগুলোর আসল সৌন্দর্য। শুধুমাত্র বিশেষ দিবসে কদর করতে দেখা যায় ভাস্কর্যগুলোর। তাও সেগুলো দায়সারা। সরেজমিন ঘুরে ভাস্কর্যগুলোর অবস্থা দেখা যায়।
অমর একুশে : নান্দনিক এ ক্যাম্পাসে ১৯৯১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৈরি হয়েছে বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও গৌরবের ভাষা শহীদদের স্মরণে স্মারক ভাস্কর্য অমর একুশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশের প্রধান সড়ক ও ক্যাফেটেরিয়ার পাশে ভাষা শহীদদের স্মরণে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সালেহ আহমেদ ‘অমর একুশ’ নামে এ নান্দনিক ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছিলেন। মহান ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় চেতনাকে কংক্রিটের শরীরে জীবন্ত রূপ দান করেছিলেন শিল্পী জাহানারা পারভীন। তাকালেই যেন বায়ান্নের সেই উত্তাল শাণিত চেতনাকে মনে করিয়ে দেয়। স্থাপনাটিতে দেখিয়েছে কীভাবে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়।
কিন্তু সেই ভাস্কর্যের অবস্থা জরাজীর্ণ। ভেঙে পরেছে মায়ের আঁচলের অনেকাংশ। নানান স্থানে বের হয়ে পরেছে ইট ও রড। নির্মাণের পর এ পর্যন্ত গায়ে রংয়ের প্রলেপ না পড়ায় কালো ধুলায় পাল্টে দিয়েছে এর আসল সৌন্দর্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের দাবি সকলের অনুপ্রেরণায় জায়গা এ ভাস্কর্যটি দ্রুত সংস্কার করে তার আগের রূপ ফিরিয়ে দেয়া হোক।
শহীদ মিনার : ভাষা আন্দোলন ও গৌরবময় স্বাধীনতাকে ধারণ করে জাবিতে গড়ে উঠেছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার। ২০০৬ সালে স্থপতি রবিউল হুসাইনের নকশায় এটি নির্মিত হয়েছিল। ৫২ ফুট ব্যাসের ভিত্তিমঞ্চের উপর ৭১ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন এই ভাস্কর্যটি আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে শিখিয়েছে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা দর্শণার্থীদের অসচেতনতার ফলে অমর্যাদার শিকার হচ্ছে স্থাপনাটি। জুতা পায়ে ভাস্কর্যটির মূল বেদীতে উঠা নিষেধ লেখা থাকলেও বাস্তবে এর উল্টো চিত্রটাই চোখে পড়ে প্রতিনিয়ত। এছাড়া শিক্ষার্থী ও ঘুরতে আসা দর্শণার্থীদের ব্যবহার্য জিনিস যেমন- বাদামের খোসা, খাবারের প্যাকেট, টিস্যু পেপার, ঠোঙা ইত্যাদি আবর্জনা প্রায় প্রতিদিনই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে এর বেদীতে। এমনকি বেদীর উপরে বসে থেকে আড্ডা দিতে দেখা যায়।
সংসপ্তক: পরাজয় নিশ্চিত জেনেও মাথা নিচু করে না, মৃত্যূর আগ পর্যন্ত লড়ে যায় সেইতো সংশপ্তক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের নির্মম কাহিনী নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান। শত্রুর নির্মম আঘাতে হাত পা হারিয়েও প্রাণপণ লড়ে যাওয়া এক বীরের চিত্রকে ধারণ করে আছে জাবির ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এই প্রেরণাদায়ক ভাস্কর্যটি। অথচ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্কারের অভাবে এটিও হারিয়ে ফেলেছে আসল রূপ। গায়ে লাগনো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার।
পানির ফোয়ারা : উপাচার্যের বাসভবনের কাছে হওয়া সত্তেও পদ্মফুল আকৃতির পানির ফোয়ারাটি অনেকদিন ধরে নষ্ট হয়ে রয়েছে। চৌরঙ্গীর মোড়ে অবস্থিত ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নির্মিত হয়েছিল এ পানির ফোয়ারা। নির্মিত হওয়ার পর কয়েক বছর সবগুলো নল সচল ছিল। তখন একযোগে পানি প্রবাহিত হত আর রাতের বেলা রঙিন আলো বিচ্ছুরিত দৃশ্য জাবির সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যুক্ত করতো। কিন্তু এ নান্দনিক স্থাপত্যটির এখন করুণ দশা। গায়ে জমে আছে শ্যাওলা। প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ফোয়ারাটি এখন প্রায় অচল হয়ে পরে আছে।
সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বলছেন এই গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্যগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও যেন তাদের টনক নড়েনি একটুও। ঠিক করার কোনো আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি না প্রশাসনের। অতি শিগগিরই আমাদের এ চেতনার ভাস্কর্যগুলো সংস্কার করা হোক।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘এ ভাস্কর্যগুলো মেরামতের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। সেখান থেকে দিক-নির্দেশনা পেলে এর সংষ্কারের কাজ শুরু করা হবে।’