ঢাকাSunday , 3 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নজরদারির অভাবে সংকটে ব্যাংকিং খাত

Link Copied!

Banladesh Bankবিশেষ প্রতিবেদক : রাজনৈতিক আধিপত্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির অভাব ও টানা কেলেঙ্কারিতে ব্যাংকিং খাতে সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’।
একই সঙ্গে আর্থিক নীতি প্রণয়নে অকার্যকারিতা, শিথিল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ তদারকির অভাব বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা প্রকট হয়ে উঠেছে বলেও মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।
`বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পর্যালোচনা – ২০১৬’ এর মার্চ মাসের সংখ্যায় সামগ্রিক অর্থনীতি বিশ্লেষণ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে। প্রতিষ্ঠানটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই প্রতিবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, শেয়ার মার্কেটে ধস, অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ প্রভৃতি ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। আর এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যাংকিং খাতের আর্থিক কেলেঙ্কারি প্রতিরোধ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ও তত্ত্বাবধায়ন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
ব্যাংকিং খাতে বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার দিক সম্পর্কে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ জানায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ (নন পারফরমিং লোন) ৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ মাসে এসে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে উপনীত হয়েছে। খেলাপি ঋণের এ হার ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর এসে বেড়ে ১০ দশমিক ১১ শতাংশ উপনিত হয়েছে। এ ছাড়া শ্রেণিবিন্যাসকৃত ঋণ ও অবলোপণকৃত ঋণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ঋণ আদায়ে এ ব্যর্থতার জন্য ব্যাংকগুলোর অদক্ষতাকেই দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদন মতে, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় উচ্চ সুদ হার, অধিক তারল্য, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস-দেশের মোট বিনিয়োগের ওপর বর্তমানে চাপ তৈরি করেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির যে স্থবিরতা বিরাজ করছে তা বেসরকারি বিনিয়োগকে প্রভাবিত করবে। যা জিডিপির প্রবৃদ্ধিকে সংকুচিত করতে পারে। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যেতে পারে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে প্রতিবছরই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অথচ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয় না। যা বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতির অকার্যকারীতাকেই প্রমাণ করে। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল। অথচ অর্জিত হয়েছিল ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।
অনুরূপভাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হলেও অর্থবছর শেষে মাত্র ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল। ঋণের বিস্তার ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির মধ্যে যোগসূত্র নির্দেশ করে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ বলেছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির শ্লথ গতি বিনিয়োগ হ্রাস করবে।
এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে নেওয়া নীতিসমূহ উচ্চ সুদের হার ও সুদের হারের ব্যবধান কমাতে এবং আর্থিক অর্ন্তভূক্তি ত্বরান্বিত করতে পারেনি। অন্যদিকে সরকারি ও ব্যক্তিখাতে ব্যাংকের ওপর অধিকৃত পরিচালন ব্যবস্থা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় অদূরদর্শিতা ব্যাংক কেলেঙ্কারি এবং ঋণ খেলাপির মতো সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ খাতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণ প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়ে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছে। যা গত বছরের এই সময়ে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ ছিল। একইভাবে এ সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশে উপনীত হয়েছে। খাতটিতে গত বছরের একই সময় ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুদ্রানীতিতে ১৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল। যা আগের মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ (১৫.৫ শতাংশ) কম। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের জুন থেকে জানুয়ারি পর্য্ন্ত সময়ে মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্পদের আয় হারের বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পদের আয় হার বিগত কয়েক বছরে ক্রমান্বয়ে কমছে। ২০১৫ সালে সম্পদের আয় হার হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ। যা ২০১১, ২০১২ ও ২০১৪ সালে যথাক্রমে ১.৩ শতাংশ, ০.৬ শতাংশ ও .৮৮ শতাংশ হয়েছিল। এ ছাড়া ইক্যুইটির আয় হার- যা দ্বারা অংশীদারদের মুনাফা পরিমাপ করা হয়।
২০১৫ সালে তা ৬ দশমিক ৬১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। যা ২০১৪ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে  বাংলাদেশ ব্যাংকের মুনাফাও হ্রাস পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে উন্নয়ন অন্বেষণ।