ঢাকাSaturday , 2 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘অটিস্টিকদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ মডেল হতে পারে’

Link Copied!

saima-wajedনিউজ ডেস্ক : ‘বিশ্বব্যাপী অটিজম ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা ও তাদের জীবনমানে দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৃষ্টিশীল, সুলভ ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। জনসচেতনতা ও সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে।’
শনিবার জাতিসংঘে ‘অটিজম মোকাবিলা : এসডিজির আলোকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কৌশল’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের অটিজম বিষয়ক পরামর্শক কমিটির চেয়ারপারসন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য সায়মা ওয়াজেদ।
অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৬ উদযাপন উপলক্ষে জাতিসংঘের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, উজবেকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র এবং অটিজম স্পিকস যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশ সাত বছর ধরে একটি বহুমুখী ও বহুপাক্ষিক মডেল বাস্তবায়ন করছে। ইতিমধ্যেই লক্ষ্য অর্জনে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) আলোকে অটিজম মোকাবিলায় বিশ্ব কৌশল গ্রহণে বাংলাদেশের এই অনন্য মডেল অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন এবং কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি আলিয়া আল-থানির সঞ্চালনায় এ উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে বান সুন-টেক, অটিজম স্পিকসের সুজানা রাইটস এবং ভারত, কোরিয়া, উজবেকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ইকোসকের প্রতিনিধি বক্তৃতা করেন।
মূল প্রবন্ধের ওপর প্যানেল আলোচনায় ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি বারনার ওবেরমেয়ের, জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. ডেভিড নাবাবরো, ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি ড. পলিন এবং উইনকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মরিন ডারকিন অংশ নেন।
প্রত্যেক বক্তাই দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার রক্ষায় অনন্য সাফল্য অর্জন করায় সায়মা ওয়াজেদর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
অটিজমসহ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রণী দেশ। বাংলাদেশ এর প্রটোকলও স্বাক্ষর করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিবন্ধীসহ সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ১৯৯৯ সালে জাতীয় ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। ২০০১ সালে তাদের অধিকার রক্ষায় প্রথম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন যুগোপযোগী করা হয়েছে। সেই বছরই অটিস্টিকসহ অন্যান্য মানসিক প্রতিবন্ধীর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা নিশ্চিতে বাংলাদেশ জাতীয় নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার সংরক্ষণ ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।’
সায়মা ওয়াজেদ জানান, বাংলাদেশ সরকারের প্রায় সবগুলো উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিয়মিত কর্মকাণ্ডে অটিজম আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের লেখাপড়ার জন্য অটিজম একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ২০১৬-২০২১ মেয়াদী সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অটিজমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সৃষ্টিশীল কর্মের বিকাশ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদেরকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ঈদ শুভেচ্ছা কার্ডে অটিস্টিক শিশুদের আঁকা চিত্রকর্ম ব্যবহার করেন। তাদেরকে উন্নয়নের মূলধারায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরে বিভিন্ন দেশের কয়েকজন অভিভাবক তাদের অটিস্টিক আক্রান্ত সন্তানদের প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার হৃদয়স্পর্শী অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের মডেল অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সকালে জাতিসংঘের উদ্বোধনী অধিবেশনেও সায়মা ওয়াজেদ হোসেন অংশগ্রহণ করেন। এ অধিবেশনে বৈষম্য হ্রাস (এমডিজি১০) বিষয়ক এক প্যানেল আলোচনায় সায়মা ওয়াজেদ বলেন, অটিস্টিকদের অধিকার রক্ষা এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশে এখন ১৪টি মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এসব মন্ত্রণালয়ের সামাজিক সেবাকেন্দ্র, কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক, স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো অটিস্টিক ও তাদের পরিবারগুলোকে সেবা প্রদান করছে। তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য এসব প্রতিষ্ঠান তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঢেলে সাজিয়েছে। এর ফলে এ কর্মযজ্ঞ এখন আর কেবল অস্টিটিক পরিবার ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নীতিনির্ধারণ, সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা সকলেই এর অংশীদার হয়েছেন। নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। অটিজম মোকাবিলায় বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর জাতিসংঘের এ অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে একজন আন্তর্জাতিক অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমন্ত্রিত হচ্ছেন। তিনি ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা উদ্বুদ্ধকরণ কর্মকাণ্ড শুরু করেন।
সায়মা ওয়াজেদ ১ এপ্রিল জাতিসংঘে ব্যস্ততম সময় কাটান। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে অংশ গ্রহণ ছাড়াও তিনি দুপুরে অটিজম নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রোপিসের প্রতিনিধি রেবেকা বাভিনজার ও কেলি লারসেনের সাথে আলেচনাকালে বাংলাদেশের অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক সেবাদান নিশ্চিতে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে সহযোগিতা করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু মোকাবিলা ও তামাক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাজ করছে। সায়মা ওয়াজেদ বলেন, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশই অটিস্টিক। প্রতিনিধিরা এ লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা করার আশ্বাস দেন।